Please Donate

Other Links

পাঁচ ব্যান্ডের আড্ডা - ডিরকস্টার্সঃ টু

ছয় বিভাগীয় শহরের ৬০০ ব্যান্ড। এদের মধ্য থেকে সেরা ছয় ব্যান্ড ‘বর্তমান’, ‘দৌড়’, ‘দৃক’, ‘এক্লিপস’, ‘পাওয়ার সার্জ’ আর ‘রেডিও অ্যাকটিভ’ নিয়ে শুরু হয়ে গেছে ডিরকস্টার্সঃ টু-এর চূড়ান্ত পর্ব। তবে আনন্দ-আড্ডায় এসেছিলেন পাঁচটি ব্যান্ডের সদস্যরা। প্রতিযোগিতার বাইরে তাঁদের আলাপচারিতা নিয়ে এই প্রতিবেদন।

পঞ্চম রাউন্ডের প্রতিযোগিতা চলছে। মঞ্চে ‘রেডিও অ্যাকটিভ’। গান শেষ করামাত্রই জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন ভোকাল পলাশ। সবাই ধরাধরি করে নিয়ে গেল হাসপাতালে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার জানালেন, পলাশের শরীরে বাসা বেঁধেছে বোন টিভি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েই এখন প্রøাকটিস করে যাচ্ছেন তিনি, ‘এর আগেও তিন রাউন্ডে জ্বর নিয়ে গান করেছি। কিন্তু আমি চাই না, শুধু আমার কারণে এত দূর এসে আমার দল পিছিয়ে পড়ুক। তাই অপারেশনের তারিখও পিছিয়ে দিয়েছি। শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত গান করে যাব দলের জন্য।’ এ ব্যান্ডের দলনেতা মিতুল জানালেন, দলের ছয়জনই এসেছেন ভিন্ন ভিন্ন সংগীতাঙ্গন থেকে। তাই তাঁদের মিউজিকেও আছে বৈচিত্র্য। তবে পড়াশোনার চাপের কারণে অনুশীলনটা একটু কমই হয়। ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই একসঙ্গে বললেন, ‘স্বাধীনভাবে গান করতে চাই। আমাদের দেশে রক গান যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিশুদ্ধ রক করে সেটা ফিরিয়ে আনতে চাই।’ নিজেদের পরে ‘পাওয়ার সার্জ’ই তাঁদের প্রথম পছন্দ। পলাশ তো বলেই বসলেন, ‘জামশেদের গান শুনলে ভেতরে কেমন যেন একটা শক্তি পাই। গত কয়েক রাউন্ড ধরে সৌভাগ্যবশত ওদের পরেই আমাদের মঞ্চে উঠতে হয়। এতে করে আমার পারফরম্যান্সও ভালো হচ্ছে।’ শুনে যেন একটু লজ্জা পেয়েই জামশেদ বললেন, ‘পাওয়ার সার্জের পর আমাদের কিন্তু প্রিয় ব্যান্ডের নাম রেডিও অ্যাকটিভ।’ থ্রাশ মেটাল ঘরানার পাওয়ার সার্জের স্টেজ পারফরম্যান্স অসাধারণ। ‘আমাদের টিমওয়ার্ক আসল। এমনভাবে আমরা বাজাই, যেন দর্শকও আমাদেরই অংশ হয়ে যায়।’ বলছিলেন নাহিয়ান। একেবারেই ভিন্ন মিউজিক নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে জানালেন, ‘আমরা এই থ্রাস মেটাল, হেভি মেটাল, মেটাল-এগুলো শুনেই বেড়ে উঠেছি। মিউজিকের দিকে আমাদের টেনেও এনেছে এসবই। তাই এ মিউজিক নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। ব্যান্ড মিউজিকও কিন্তু একটা সময় নতুন ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে। আমরা চাই, আমাদের হাত ধরেই যেন এ দেশে থ্রাস মেটাল একটা জায়গায় পেঁৗছাতে পারে।’

নদীর ধারে আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে সেদিন পুরোদমে চলছিল ফটোসেশন। এক ফাঁকে কেউ একজন বলল, ‘ইস, এক্লিপস থাকলে আরও মজা হতো।’ সবাই মিস করছিল তাদের সঙ্গী ব্যান্ডটিকে। এরই মধ্যে ফোনে কথা হলো ‘এক্লিপস’-এর দলনেতা নিজামের সঙ্গে। তিনি জানালেন, একটা প্রোগ্রামে বাজানোর কথা থাকায় আসতে পারেননি। তবে দারুণ মিস করছেন সবাইকে। প্রোগ্রেসিভ মেটাল ঘরানার ব্যান্ডটির ভোকাল দীপ জানালেন, ‘আমরা ব্যান্ডসংগীতের নতুন একটা ধারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি। তবে রেডিও অ্যাকটিভ প্রতিষ্ঠিত একটি ধারাকে আরও চমৎকারভাবে উপস্থাপন করছে।’ বোঝা গেল নিজেদের পরে তাদের পছন্দ কোনটা।

ঢাকার বাইরের একমাত্র ব্যান্ড ‘বর্তমান’। খুলনার এ ব্যান্ডটির সবাই খুব দিলখোলা। দলনেতা মাসুম হঠাৎ বৈঠা নিয়ে নৌকা চালানো শুরু করলেন। সবই হা হা করে উঠলেও দেখা গেল গানের গলার মতো বৈঠার হাতও তার খুব একটা খারাপ না। মাসুম জানালেন, ‘ঢাকার বাইরের হওয়ায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া নিয়ে আমাদের বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। সে কারণে অনুশীলনটা ভালো হয়নি, নয়তো আমরা আরও ভালো করতাম। আমরা মানুষের জন্য গান করি। যারা ব্যান্ডের গান শোনে, তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নতুন ধরনের গান করতে চাই।’ মেলো, ফোক, রক-সব গান করা এ দলের পছন্দ পাওয়ার সার্জকে।

মাসুমের দেখাদেখি নৌকা বাওয়া শুরু করলেন দৃকের রাহিও। তবে নৌকা একচুলও না নড়ায় সবাই দুয়োধ্বনি দিয়ে উঠল। ‘আরে, নৌকা তো সবাই চালাতে পারে। এ রকম নৌকা ব্রেক কয়জন করতে পারে!’ রাহির উত্তরে সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ‘দৃক’-এর মূল সমস্যা ভোকাল নিয়ে। প্রতিযোগিতার মাঝখানে আগের ভোকালিস্ট হুট করে ইতালি চলে গেলে তাড়াহুড়ো করে সাইফকে দলে নেন তারা। হঠাৎ করে এসেও যথেষ্ট মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে এখনো দলের অনেক গানই তোলা হয়নি বলে জানালেন সাইফ। মুশফেক বললেন, ‘আমাদের আবারও নতুন করে অনুশীলন শুরু করতে হয়েছে। আমাদের অনেক গানই তোলার সময় পাচ্ছি না। দল হিসেবে তিন-চার বছর পিছিয়ে গেছি।’ তার পরও কম্পোজিশন আর দলীয় প্রাণশক্তিতে ভরপুর দলটির নিজেদের নিয়ে ব্যাপক আশাবাদ। নিজেদের পর রেডিও অ্যাকটিভই পছন্দের ব্যান্ড।

এদিকে নিজেদের সবচেয়ে ব্যালান্সড দল বলে দাবি করলেন ‘দৌড়’-এর সদস্যরা। পপ রক থেকে পাঞ্চ রক, ফোক, মেলোডি, ফিউশন-সব গানই করেন তাঁরা। শাওন জানালেন, ‘আমরা সব সময় শ্রুতিমধুর গান করতে চাই, যেন তা শ্রোতাদের হূদয়ে দাগ কেটে যায়। আর প্রতিযোগিতাটা করি। নিজেদের সঙ্গে কে কী করল, তার থেকে বড় কথা আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারলাম কি না।’

তিন বিচারকও এদের নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। শাফিন আহমেদ জানালেন, ‘এই ছেলেগুলো বাংলাদেশে একটা নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। এদের কোয়ালিটি এক কথায় অবিশ্বাস্য রকমের।’ পার্থ বললেন, ‘এই ব্যান্ডগুলো বর্তমানে অনেক স্বীকৃত ব্যান্ড থেকেও ভালো করছে। গান নিয়ে যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সাহস এরা দেখাচ্ছে, তা এক কথায় অসাধারণ।’ আর সুমনের অভিমত, ‘প্রতিটি দলই যার যার জায়গায় ভালো। তার পরও দর্শক-শ্রোতা যাকে বেছে নেবে, তারাই সেরা হবে।’ সেরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে টিমওয়ার্ক, বাজানো, ভোকাল ও গানের মান-এ দিকগুলোই মাথায় রাখেন বিচারকেরা। তাঁরা আরও জানালেন, এ ব্যান্ডগুলোর বাইরেও বেশকিছু ভালো ব্যান্ড ছিল প্রতিযোগিতায়। যেমন বৃত্ত, অফস্ট্রিট, বেদুঈন, বর্ডার-যারা মঞ্চে কিছু ভুল করেছে। ভুল গান নির্বাচন এবং এসএমএসের কারণে বাদ পড়ে গেছে তারা। তাদেরও যোগ্যতা ছিল ভালো কিছু করার। সেরা ব্যান্ড কে জানতে চাইলে তিন বিচারকই পড়ে যান বেশ বেকাদায়। সবারই আছে একাধিক পছন্দের ব্যান্ড। শেষ পর্যন্ত কোন দলটি হচ্ছে ডিরকস্টার্সঃ টু-জানতে হলে অপেক্ষায় থাকতে হবে আর কটা দিন। শেষ বিজয়ীর হাসির প্রতীক্ষায়···

সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০০৭

Post Your Comments

Bangla Music : Incoming search terms

    bangla music (1) -