সৃষ্টিশীল গানের স্বপ্নে পুতুল
ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ-২০০৬ প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফাইনালেতে টপ টেনের প্রথম তিনজন বাদে বাকি সাতজনের গানের একটা অংশ ছিল। সে অংশে পুতুলের গানটি হলো ‘আমার কোনো জায়গা নাইরে..’। গান শুনে সাংবাদিক কর্নারে পাশে বসা এক সাংবাদিক তো বলেই ফেললেন, এই মেয়ে জায়গা নাইরে বললেও কিন্তু লাভ নাই । কারণ এরই মধ্যে সে স্টার পরিচিতি পেয়ে আলাদা জায়গাই পেয়ে গেছে! ফেনীর মেয়ে সাজিয়া সুলতানা পুতুল ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন ভক্তদের হৃদয়ে।
লাজুক হাসি হাসা পুতুলের পরিবারটি একটি সংস্কৃতিমনা পরিবার। তাই ছোট থেকে গানের চর্চায় সবার কাছ থেকেই উৎসাহ পেয়েছেন। গানের হাতেখড়ি হয়েছে বড় বোনের কাছে। তারপর নিয়মিতভাবে সঙ্গীত চর্চা করেছেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সঙ্গীতকেই করেছেন ধ্যান-জ্ঞান। বিভিন্ন সময় গান লিখেছেন ওস্তাদ সুরেন বর্মণ, আতিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের সিনিয়র মিউজিক ডিরেক্টর সুজিত মোস্তফার কাছ থেকে। স্কুল জীবনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জিতে নিতেন পুরস্কার। নতুন কুড়ি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দেশাত্মবোধক গান শাখায় প্রথম এবং পল্লীগীতি শাখায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন পুতুল।
ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পুতুল জানালেন, ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় এটি আমার দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ। প্রথমবার বিজ্ঞাপন দেখে রেজিস্ট্রেশন করার পর কুমিল্লা জোন থেকে একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে আমি ঢাকায় আসতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেবার শীর্ষ ২০ থেকে বাদ পড়ে যাই। তখন খুব মন খারাপ হয়েছিল। তখন থেকেই মনে একটা জেদ ছিল। সেই জেদ নিয়েই এবারের ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। অবশেষে টপ টেনে স্থান করে নিই আমি।
পুতুল এবারের ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় সেরা সাতজনের মধ্যে আসতে পেরেছিল। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সে পেয়েছে দেশব্যাপী খ্যাতি। ভক্তরা গান শুনতে চায় মোবাইল ফোনে। পুতুল বললেন, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক সব শ্রেণীর শ্রোতারাই আমাকে গ্রহণ করেছে, আমার গান পছন্দ করছে। শ্রোতাদের এই ভালোবাসা আমার কাছে অনেক বড় পাওনা। ব্যান্ড রাউন্ডে পুতুলের গাওয়া গানটি ছিল ‘আচ্ছা কেন মানুষগুলো এমন হয়ে যায়..’।
পুতুলকেই জিজ্ঞাসা করা হলো তার জীবন তাহলে এখন কেমন হয়ে গেছে। তার জীবনে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার কারণে যোগ হয়েছে তারকা খ্যাতি। তারকা খ্যাতির জীবনে এখন অনেকেই তাকে চিনছে। তারকা খ্যাতি নিয়ে মজার একটা ঘটনা নিজের মুখে বললেন পুতুল । কমলাপুর স্টেশনে এক মহিলার সঙ্গে দেখা হয়। মহিলা জানান, তিনি আমাকে খুবই পছন্দ করেন। আমার বাদ পড়ায় তিনি নাকি খুবই কষ্ট পেয়েছেন। আমাকে সামনাসামনি দেখতে পেয়ে তিনি আনন্দিত হয়ে কেদে ফেলেন। ছোটখাটো এই ঘটনাগুলো আমার জন্য অনেক বেশি অনুপ্রেরণার।
সাজিয়া সুলতানা পুতুলের জন্মতারিখ ১৩ জুলাই। কর্কট রাশির এই জাতিকা নজরুল সঙ্গীত এবং ক্লাসিকাল গাইতে এবং শুনতে পছন্দ করেন। তার প্রিয় শিল্পীরা হলেন শ্রেয়া ঘোষাল এবং মৌসুমি ভৌমিক। পুতুলের ধ্যান-জ্ঞান গানকে ঘিরে। এ জন্যই বুঝি অবসরে গান শুনতে এবং গান গাইতে পছন্দ করেন তিনি।
পুতুল বর্তমানে ইউডাতে মিউজিকে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ইনডিয়ান হাইকমিশন থেকে মিউজিকের ওপর স্কলারশিপ পেয়েছিলেন পুতুল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ইনডিয়ায় যাওয়া হচ্ছে না তার। এপৃল থেকেই সেমিস্টার শুরু হবে। পড়াশোনা সম্বন্ধে পুতুল বলেন, পছন্দের একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারছি। এটা আমার কাছে বড় রকমের পাওয়া।
ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সময়টিতে বিচারকদের কাছ থেকে নানা ধরনের উৎসাহমূলক কথা শুনেছেন পুতুল। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তার মৌলিক গানটি শুনে বলেছিলেন, ‘বৃটিশরা ইনডিয়া উপমহাদেশে ধনরত্ন নিয়ে যাওয়ার জন্য আসতো। তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন ছিল কোহিনুর। তুমি হচ্ছো আমাদের সঙ্গীত অঙ্গনের সেই কোহিনুর।’
মিউজিকে উচ্চ ডিগ্রি নেয়ার স্বপ্ন আছে তার। আর পুতুল এমন কিছু সৃষ্টিশীল গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখেন যার মাধ্যমে বাংলা গানে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: Ahmed Imtiaj Bulbul, Putul, আহমেদ ইমতিয়াজ, পুতুল

Post Your Comments