মৌলিক সুরের মাঝেই বেচে থাকতে চান রাজেশ
হাজারের কাছাকাছি গানে সুর দিয়েছেন তিনি। তার সুর করা উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে মিতালী মুখার্জির জীবন নামের রেলগাড়িটা পায় না খুজে ইস্টিশন, আকবরের তোমার হাতপাখার বাতাসে, আসিফের পাষাণী, সজনী কথা রাখোনি, বন্ধু বিদায়, বাচবো নাসহ আরো অনেক গান। রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন ছাড়া অন্য প্রায় সব শিল্পীই গেয়েছেন তার সুরে। সম্প্রতি সুরকার রাজেশের সঙ্গে কথা বলেছেন রণক ইকরাম
আপনি তো সুরকার-গীতিকার। আপনার তুলনায় কিন্তু একজন গায়কের ক্রেইজ বেশি। তা দেখে গায়ক হতে ইচ্ছা করে না?
অবশ্যই। কারণ আমি আসলে গান গাইতেই এখানে এসেছিলাম। কিন্তু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুরকার হয়ে গেছি।
কিভাবে?
গানের সঙ্গে অনুরাগ আমার ছোটবেলা থেকেই। খুলনায় আমাদের একটা ব্যান্ড দল ছিল। ওটার গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট ছিলাম আমি। ওখানে গান করে বিভিন্নজনের প্রশংসা ও অনুপ্রেরণায় ঢাকায় চলে আসি ১৯৯৬ সালে। ঢাকায় কয়েক মাস ঘোরার পর আবিদ রনির সিম্ফনি স্টুডিওতে নিজের কথা-সুরে দুটি গান রেকর্ড করলাম। সেখানেই আমার কাজ দেখে কয়েকজন তাদের গান করে দিতে বললো। তখন চিন্তা করলাম, ক্যাসেট বের করে হারিয়ে গিয়ে কি লাভ? সুযোগ যেহেতু আছে সুর করা শুরু করি। ব্যস এভাবেই পরিপূর্ণ গানের মানুষ হওয়ার জন্য শিল্পী না হয়ে সুরকার হয়ে যাই আমি।
আপনার প্রথম কাজ কোনটি?
আমার প্রথম কাজ ছিল রেহমান মিন্টুর একক অ্যালবাম। যেটি ১৯৯৭ সালে বের হয়েছিল। তবে আমাকে প্রথম বড় সুযোগ এনে দেন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মঞ্জু ভাই। ২০০০ সালে সিডি সাউন্ড থেকে আমার সুরে প্রবঞ্চনা নামে একটি মিক্সড অ্যালবাম বের হয়। সেই অ্যালবামে এন্ড্রু কিশোর, মনির খান, কুমার বিশ্বজিৎ ও রবি চৌধুরীর গানে আমি সুর দিয়েছিলাম। এরপর প্রদীপ সাহার কথায় আসিফ, আতিক বাবু ও পিয়াল হাসানের ভুলতে পারি না সাথী নামে একটি মিক্সড অ্যালবাম বের হয়। এরপর থেকে আজ অবধি আসিফের প্রতিটি একক এবং প্রচুর মিক্সড অ্যালবামে আমি সুর দিয়েছি।
সুর করতে গেলে প্রিয় গানের প্রভাব পড়ে না?
সেই রকম কোনো প্রভাব পড়ে বলে মনে হয় না। কারণ সুর করাটাই আমার সাধনা। একটা গান শুনলে সেটা আমার মাথায় থাকে আর মাথায় থাকা সুরটার বাইরে নতুন কিছু করাই আমার সাধনা।
আমাদের সবকিছুই সার্কেলাইজড হয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত কিছু ব্যক্তির অসহযোগিতার কারণে তরুণরা উঠে আসতে পারছে না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?
এ প্রক্রিয়ার শিকার আমি নিজেও। কেননা প্রথম দিকে কোনো দিক দিয়েই আমি কোনো ব্যাকআপ পাইনি। তবে আমি মনে করি প্রতিভা থাকলে তার স্ফুরণ ঘটবেই। তবুও আমি চেষ্টা করি সবসময়ই নতুনদের নিয়ে কাজ করার।
মুভিতে করা কাজ প্রসঙ্গে বলুন।
২০০০ সাল থেকেই সিনেমায় কাজের অফার পেয়ে আসছি। কিন্তু সেখানে প্রডিউসার সবকিছু বলে-কয়ে দেয়। আর যাহোক সুর চুরি করতে আমি পারি না। তাই সিনেমায় কাজ করার উদ্যম পাই না। তবু সব শর্ত মেনে ছিন্ন ভিন্ন নামে একটা মুভির কাজ করেছিলাম। পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ও সুযোগ পেলে কাজ করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে।
অডিওর বাইরে অন্য কাজ করেন না?
করি না তা নয়। তবে অল্প। কয়েকটি জিঙ্গল করেছি। জল পড়ে পাতা নড়ে শীর্ষক একটি টাইটেল সংও করেছি। টুকটাক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কাজও করেছি।
আমাদের রিমিক্স কালচার নিয়ে আপনার বক্তব্য কি?
এটা খারাপ নয়। তবে মূল গানের শিল্পী জীবিত থাকলে তাকে দিয়ে অথবা তার তত্ত্বাবধানে গান করা উচিত। বিকৃত সুর ও বিকৃত মিউজিকে কিছু করা ঠিক নয়।
একটা প্রিয় স্বপ্নের কথা বলুন
স্বপ্ন নয় ঠিক। একটা প্রিয় ভাবনা হলো সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার গানে সুর করা।
নতুন কি কাজ করছেন?
আসিফ ও বাচ্চু ভাইয়ের ডুয়েটের আসিফের পার্টটা আমি করছি। আর শামীম আরা ও সুলতান আহমেদ নামে দু’জন নতুন শিল্পীর সলো অ্যালবাম করছি।
গানের জন্য পুরস্কার পাননি?
হ্যা, বাচসাস পুরস্কার পেয়েছি তিনবার, সিজেএফবি দু’বার। এছাড়া একতা রাবিশাস, বৈশাখী অ্যাওয়ার্ডসহ ২০-২২টির মতো পুরস্কার পেয়েছি। আর সবচেয়ে বড় পুরস্কার দর্শকদের ভালোবাসা তো রয়েছেই।
ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলুন।
আড়াই বছর আগে শম্পা ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয়। মোহাম্মদপুরে একসঙ্গে আছি। সন্তানসন্ততি আপাতত নেই।
আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মৌলিক গানে সুর দিয়েই বেচে থাকতে চাই। লোকজন যেন রাজেশের গানকে মনে রাখতে পারে।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: Andrew Kishore, Kumar Bishwajit, Rajesh, Sabina Yasmin, এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ, রাজেশ, সাবিনা ইয়াসমিন
Post Your Comments