কালজয়ী গান করতে চান মাহমুদ জুয়েল
নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে মিডিয়ায় আসা মাহমুদ জুয়েল একজন গীতিকার, সুরকার হিসেবে কাজ করে যা”েছন নিভৃতেই। শুরুর দিকে গায়ক হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সুরকার হিসেবে। ডলি সায়ন্তনীর বিষম পিরিতি-পিরিতি, আজম খানের থাকবো না যেদিনসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুরকার মাহমুদ জুয়েল।
আপনার কথা ও সুরে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অবহেলা অ্যালবামের রেসপন্স কেমন?
বেশ ভালো। আমাদের এ তিনজনকে নিয়ে এর আগে একই ধারার সুখী হতে পারেনি নামে একটি অ্যালবাম করা হয়েছিল। এবারের অ্যালবামটিকে সেটির সিকোয়েল বলা চলে। আর বর্তমান মন্দা বাজারেও অ্যালবামটি ভালো সাড়া জাগিয়েছে।
আপনার মিডিয়ায় আগমন কবে?
নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ১৯৯১ সালে আমাদের ব্যান্ড নর্দার্ন স্টারের প্রথম অ্যালবাম কেউই যায় বের হয় ডন মিউজিক থেকে। পরে সঙ্গীতা থেকে বের হয় দুঃসময় এবং সাউন্ডটেক থেকে ফটো সুন্দরী বের হয়।
এই পথে আগমনের গল্পটা শোনান।
আমি ছিলাম ঠাকুরগাওয়ের চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর এক কঙ্গোবাদক, সেখান থেকে গান গেয়ে নর্থ বেঙ্গলে দারুণ সাড়া ফেলতে সক্ষম হই। এরপর বড় ভাই আরেফিনের উদ্যোগে নর্দার্ন স্টার গঠনের সিদ্ধান্ত নিই। ঢাকায় স্টুডিও গোল্ডেন মিউজিকে এসে পরিচয় হয় আজম খানের ড্রাম বাদক মুন্নার সঙ্গে। সেখান থেকে ডনের মালিকের সঙ্গে পরিচয় এবং আমাদের গান পছন্দের পর আমাদের অ্যালবাম বের হয়। অন্যদিকে বিটিভিতে অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিবেদনে গাইতে গিয়ে পরিচয় হয় ডলি সায়ন্তনী ও আহমেদ রিজভীর সঙ্গে। সেখানেই রিজভী আমার গানে মুগ্ধ হয়ে ডলির জন্য গান করতে বলে। মূলত রিজভীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাতেই আমি এতোদূর এসেছি। আর আমার সুর করা প্রায় সিংহভাগ গানই রিজভীর লেখা।
সাম্প্রতিক কাজের কথা বলুন।
আমার নিজের সলো অ্যালবাম চুপি চুপি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। এছাড়া এবার দুটো নতুন ফিমেল আর্টিস্টকে প্রমোট করছি। একজন হ”েছ সিরাজ শিকদারের মেয়ে শিখা শিকদার এবং অন্যজন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মিতা। দুটো অ্যালবামের গানই লেখা ও সুর করার দায়িত্ব পালন করেছি আমি। এছাড়া আমি চ্যানেল আইতে সারেগামা স্ট্রিট শো উপস’াপনা করছি নিয়মিত।
উল্লেখযোগ্য কাজের কথা বলুন।
উল্লেখযোগ্য কাজ প্রচুর রয়েছে। আমার সুর করা প্রথম হিট গান ছিল ডলি সায়ন্তনীর বিষম পিরিতি পিরিতি। ডলি, বেবী রিজিয়া, মিতু, রুক্সী ও ঝুমু খানের একটি মিক্সড অ্যালবাম শিহরণ সেই সময় ভালো সাড়া জাগিয়েছিল। আজম খানের থাকবো না যেদিন অ্যালবামের টাইটেল সং আমার করা। আর ডলি সায়ন্তনী ও বেবী নাজনীনের সর্বপ্রথম এবং এখনো পর্যন্ত একমাত্র ডুয়েট অ্যালবাম সোহাগীর সুরকার আমি। এছাড়া আমি নিজে আলম আরা মিনু, রিজিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকটি ডুয়েট অ্যালবামের কণ্ঠ দিয়েছি। আসিফের জন্য প্রচুর গান করেছি। অভিনয় অ্যালবামের টাইটেল সংসহ আসিফের সাম্প্রতিক এককগুলোতে আমার কোনো না কোনো গান থাকছেই।
নিজেকে একজন গায়ক নাকি সুরকার ভাবতে বেশি ভালো লাগে?
গায়ক ভাবতেই ভালো লাগে। তবে এখন যেহেতু আমি পুরোদস’র একজন সুরকার তাই কোনো পরিচয়কেই আমার খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
গান লিখতে ভালো লাগে নাকি সুর করতে?
দুটোই ভালো লাগে। নিজে লিখে সুর করতে স্বা”ছন্দ্য বোধ করি। এতে গানের কম্প্যাক্টনেস বাড়ে। ছন্দ মেনটেইন হয়। আমি এ পর্যন্ত ৫০০-৬০০ গানের সুর করলে নিজের গান ছাড়া শুধু একজন গীতিকারের লেখা গান সুর করেছি। তিনি আহমেদ রিজভী। এর বাইরে কোনো গীতিকারের গান আমি সুর করিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মিউজিক নিয়ে কাজ করাটাই আমার মূল লক্ষ্য। কিছু কালজয়ী গান করে যেতে চাই সেগুলো সবাই মনে রাখবে।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: Azam Khan, Dolly Sayantani, আজম খান, ডলি সায়ন্তনী
Post Your Comments