ভালো গান করে আসন গড়তে চান এটিএন তারকারা
সম্প্রতি যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্সে এসেছিলেন এটিএন বাংলা আয়োজিত তারকাদের তারকা প্রতিযোগিতায় সেরা ১০ জনের মধ্যে মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, ফারহানা পারভীন, আবদুল্লাহ আল ওবেদী সবুজ, রেজওয়ানা করিম মৌলি, নাহিদা ইসলাম একা, সেলিনা আক্তার চুমকী ও নাহিদ আখতার শাম্মী। আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন ফিচার এডিটর মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান, এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগের সহ-সম্পাদক রেজাউর রহমান রিজভী ও আনার কলি নিশি।
যাযাদি : প্রতিযোগিতায় কোন প্রক্রিয়ায় ১০ জনকে বাছাই করা হয়েছে সে সম্পর্কে বলুন।
সবুজ : সারা দেশে প্রথম রাউন্ডে ৭২ হাজারের মতো প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। আমরা ১৮টি জোন থেকে আটজন করে মোট ৫৬ জন ঢাকায় আসি। আমাদের মধ্যে গ্রুপ করে দেয়া হয়। প্রতিটি গ্রুপে ছিল ৭ জন। এরপর ৫৬ থেকে ৩৫ জনকে বাছাই করা হয় এবং ৩৫ থেকে ১০ জনকে বাছাই করা হয়।
ফারহানা : আমরা অনেক কষ্ট করে এ অবস্থানে এসেছি। এই যেমন একটি গান কাহারবা তালে গাইছি। হঠাৎ বলা হলো এই গানটাই ঝাপ তালে গাও।
শাম্মী : তবে একটা বিষয় লক্ষণীয় ছিল তা হলো, আমাদের জাজ হিসেবে যাদের নেয়া হয়েছিল তারা ভীষণ নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চমৎকারভাবে বিচার পর্ব সেরেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন শেখ সাদী, খুরশীদ আলম, বশির আহমেদ।
যাযাদি : হোটেল সুন্দরবনের দিনগুলো কেমন কেটেছে?
মৌলি : অসাধারণ কেটেছে। সেখানে ভীষণ আনন্দ করেছি। ওটা আমার জীবনে স্বপ্নের মতো একটা ব্যাপার ছিল। প্রথমে আমাদের কারোর সঙ্গে কারোর কোনো পরিচয় ছিল না। এরপর একটু একটু করে সবার সঙ্গে পরিচিত হই। বন্ধুত্ব গড়ি। সেখানে কড়া নিয়মের মধ্যে চলতে হয়েছিল। সকাল ৮টার মধ্যে নাশতা খেতে হতো। এ কারণে আমরা সবাই একসঙ্গে ডাইনিংয়ে যেতাম। আর আমাদের প্রতিটি মেয়ের সঙ্গে একজন গার্ডিয়ান ছিলেন।
চুমকি : সুন্দরবন হোটেলে আমরা প্রায় সাড়ে চার মাস থেকেছি। মাঝে মধ্যে সবাই মিলে একসঙ্গে বেইলি রোডে নাটক দেখতে যেতাম।
সবুজ : কর্তৃপক্ষ আমাদের নন্দন পার্কেও বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল।
রেজওয়ানুল : আমরা হোটেলে একসঙ্গে সব প্রতিযোগী থাকতে পারতাম না। ১৬ জন থাকতাম। এ ক্ষেত্রে নাটকের আটজন আর গানের আটজন থাকতো।
যাযাদি : আপনারা কে কোন ধরনের গান করেন এবং কার কোন কণ্ঠশিল্পীর গান ভালো লাগে?
মৌলি : আমি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত আর নজরুল সঙ্গীতকে বেইজ হিসেবে নিয়েছি। আমার রুনা লায়লা আর সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে গান শুনতে ভালো লাগে।
শাম্মী : আমি নজরুল সঙ্গীত চর্চা করি। আমার মিতালী মুখার্র্জি আর রুনা লায়লার গান ভালো লাগে।
চুমকী : আমি লালনের গান করি। আর রুনা লায়লা আমার প্রিয় গায়িকা।
সবুজ : আমার বেইজ হচ্ছে আধুনিক গান। আমার প্রিয় শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।
রেজওয়ানুল : আমি মূলত ক্লাসিকাল মিউজিকের চর্চা করি। আর আমার প্রিয় শিল্পী রুনা লায়লা।
ফারহানা : আমি সব ধরনের গানই করে থাকি। আমার সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাপার গান ভালো লাগে।
একা : আমি বাংলা হিন্দি সব ধরনের গানই গেয়ে থাকি। আমার প্রিয় কণ্ঠশিল্পী হলেন রুনা লায়লা।
যাযাদি : তারকা হওয়ার পর আপনারা কেমন ফিল করছেন?
সবুজ : আমি জয়পুরহাটে অবস্থিত জামালগঞ্জ কলেজে শিক্ষকতা করি। এটিএন তারকা হওয়ার পর আমার ক্লাসে ছাত্র উপস্থিতির সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আমি বাংলাভাষা ও সাহিত্য পড়াই। তবে ক্লাসে খানিক বিড়ম্বনারও শিকার হতে হয়। স্টুডেন্টরা প্রায়ই ক্লাস বন্ধ রেখে আমার কণ্ঠে গান শুনতে চায়।
একা : এমন ঘটনা আমার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। অনার্স পার্ট টু পরীক্ষা শেষে ভাইভার সময় একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল। ভাইভা বোর্ডের টিচাররা আমাকে ইকনমিক্স রিলেটেড কোনো প্রশ্ন না করে আমার কণ্ঠে গান শুনতে চেয়েছিলেন। আবার তারকা হওয়ার ফলে কিছু বিষয়ে ছাড় পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই যেমন আমাদের ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশ রয়েছে ৭৫% ক্লাসে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে। তারকা হওয়ার কারণে অনেক সময় আমার প্রয়োজনে টিচাররা ক্লাস কনসিডার করেন।
যাযাদি : মিডিয়ার প্রতি আপনাদের প্রত্যাশা কি?
রেজওয়ানুল : আমরা সবসময়ই আশা করবো মিডিয়ার সহযোগিতা। আমরা এখনো প্রফেশনালিজমে অভ্যস্ত হতে পারিনি। মিডিয়ার কাছ থেকে সর্বদা গঠনমূলক সমালোচনা আশা করবো। আমরা সবাই মিউজিকে পর্যাপ্ত সময় ব্যয় করছি। আমরা শক্তিশালী মনোবল গড়ে তুলতে চাই। আমি যাযাদির মাধ্যমে এটিএন বাংলার কয়েকজন ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যাদের সহযোগিতা ছাড়া আমরা আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। তারা হলেন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, নওয়াজীশ আলী খান ও বেঙ্গল গ্রুপের আবুল খায়ের লিটু।
মৌলি : আমরা যেহেতু রাইজিং অবস্থানে আছি। তাই আমাদের ভুল-ত্রুটি হবেই। এ কারণে আমাদের পজিটিভলি ফোকাস করার জন্য মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
সবুজ : পৃন্ট মিডিয়ার কাছে আমাদের চাওয়া আমরা কিন্তু আমাদের সব কথা সবার সামনে তুলে ধরতে পারি না। আপনারা আমাদের কথাগুলো তুলে ধরুন।
ফারহানা : আমরা ভালো গান করে লোকের মাঝে স্থায়ী আসন গড়তে চাই। এজন্য সব ধরনের মিডিয়ার সহযোগিতা চাই।
যেভাবে আসা এটিএন তারকাদের তারকায়
মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক : আমি গাইবান্ধা থেকে অংশগ্রহণ করেছি। আমি প্রথম হয়েছি। প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা আমার জন্য কোইনসিডেন্স বলতে পারেন। আমি কলকাতায় রবীন্দ্রভারতীতে মিউজিকের ওপর পড়াশোনা করেছি। আমার শুরুটা হয়েছে গাইবান্ধায়। যেখানে ওস্তাদ আনোয়ারুল হকের কাছে প্রথম গান শিখি। ওখান থেকে ঢাকায় গভর্নমেন্ট কলেজ অফ মিউজিকে ভর্তি হই। এরপর স্কলারশিপ নিয়ে ইনডিয়া যাই। প্রতিযোগিতায় আমার ছোট ভাইয়ের নাম দিতে গিয়ে আমিও জড়িয়ে পড়ি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিষয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। উৎসাহী করেছে।
সবুজ : আমি জয়পুরহাট অঞ্চল থেকে এসেছি। আমি চতুর্থ স্থান অধিকার করেছি। পত্রিকায় সার্কুলার দেখে বৃষ্টিতে ভিজে ফর্ম সংগ্রহ করি। প্রতিযোগিতার প্রথম দিন আমার গায়ে ১০১০ জ্বর ছিল। সর্দি লেগে গিয়েছিল। নাক চেপে ধরে প্রথম দিন গান গেয়েছি। পরদিন প্রতিযোগিতাস্থলে গিয়েছিলাম কালো পাঞ্জাবি পরে। মানে শোকে বিহ্বল হয়ে উপস্থিত হই। ভেবেছিলাম হয়তো বাদ পড়ে যাবো। কিন্তু ফলাফল শুনে অবাক হয়ে যাই। ৮ জনের মধ্যে আমার নাম রয়েছে। এরপর পরবর্তী রাউন্ডে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকায় আসি।
ফারহানা : আমি কক্সবাজার থেকে এসেছি, সেকেন্ড হয়েছি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পেছনে বাসার সাপোর্ট খুব একটা ছিল না। তবে বড় বোনের সাপোর্টে এতোদূর এসেছি। আমার এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ছেলেমেয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। সেখানে ফাইট করে সিলেকশন রাউন্ডে উঠে আসি। তাছাড়া এখানে যারা উপস্থিত আছেন তারা ৭২ হাজার অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত শীর্ষ দশের সদস্য।
একা : আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। সপ্তম স্থান অধিকার করেছি। আমার আগমনটা খুবই মর্মান্তিক। প্রতিযোগিতার দিন আমার ক্লাস টিউটোরিয়াল ছিল। সেই সঙ্গে ঝড়ছিল তুমুল বৃষ্টি। সবকিছু ছাপিয়ে যখন প্রতিযোগিতাস্থলে আসি তখন দেখি প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা রেজাল্ট বলছেন। আমি আয়োজকদের পরামর্শক্রমে কুমিল্লা থেকে অংশগ্রহণ করি।
মৌলি : আমার বাড়ি রাজশাহী আর আমি পঞ্চম হয়েছি। ছেলেবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। ১৮টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। আমি ফ্যামিলি, বন্ধুবান্ধব সবার অনুপ্রেরণায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি।
চুমকি : আমার বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও আমি ঢাকা থেকে অংশগ্রহণ করি। অষ্টম হয়েছি। আমি আমেরিকায় ছিলাম। সেখান থেকে এক বন্ধুকে বলে রেজিস্ট্রেশন করি।
শাম্মী : আমি ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দশম স্থান অধিকার করি। তবে আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখে রেজিস্ট্রেশন করি। তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।
Bangla Music : Incoming search terms
- আবুল খায়ের লিটু (1) - চুমকি (1) -

Post Your Comments