ইন্ডিয়ান আইডল থ্রি অমিত, নাকি প্রশান্ত?
অনেকটা ক্রিকেট খেলার মতোই ভারতীয় দর্শকদের মন। এই মন কখন কী যে চায়, ধারণা করা মুশকিল। প্রথম ইন্ডিয়ান আইডল-এ সংগীতবোদ্ধারা অমিত সানাকেই বেশি যোগ্য মনে করেছিলেন। সৌন্দর্য, পরিবেশনা, সব মিলিয়ে অভিজিৎ সাওয়ান্ত এগিয়ে গেলেও খুব একটা অশোভন হয়নি। দৃষ্টিকটু লেগেছিল ইন্ডিয়ান আইডল টু-তে; এন সি কারুণ্যের মতো মেধাবী থাকার পরও উদিত নারায়ণের কার্বন কপি সন্দ্বীপ আচার্য খেতাব জিতে নিয়েছিলেন সেবার। কারণ একটাই-সন্দ্বীপের এলাকার ভক্তরা দুই হাত ভরে তাঁকে ভোট করেছিল। তবে খেতাব সেবার সন্দ্বীপের ভাগ্যে জুটলেও এরপর তাঁর নামনিশানাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তুলনায় কারুণ্য লাগে রাহো মুন্নাভাই ছবিতে গান গাওয়া ছাড়াও সম্প্রতি নতুন একটি একক অ্যালবাম বের করেছেন। অ্যালবামের কাটতিও মন্দ নয়।
প্রতিবারের ধারাবাহিকতা এবারও হতে পারে ইন্ডিয়ান আইডল থ্রির ফলাফলে। অন্তত এখন পর্যন্ত তেমন আভাসই দেখা যাচ্ছে। কখনো গান না শেখা, পুলিশ প্রশান্ত তামাং এবার ‘ভারতের গর্ব’ খেতাব জিতে নিতেই পারেন। প্রশান্তর আছে অস্বাভাবিক ভক্তশ্রেণী, যাঁরা এখন পর্যন্ত প্রশান্তকে ভোট দিয়ে ‘ডেনজার জোন’-এ আসতে দেননি। অথচ আরেক প্রতিযোগী শিলংয়ের অমিত পল সাতটি ভাষায় গান জেনেও বেশ কয়েকবার ‘ডেনজার জোন’-এ এসেছিলেন। একবার তো বাদই পড়ে গিয়েছিলেন অমিত। পরে ওয়াইল্ড কার্ড রাউন্ডে বিচারকদের পছন্দে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন।
চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রশান্ত-অমিত দুজনই তিনটি করে গান গেয়েছেন। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রথম দুটি গানে অমিত মাতিয়ে দিলেও শেষ গানে কথা ভুলে বসেন। প্রশান্তও তাঁর প্রথম গানে কথা ভুলেছিলেন। তবে যেহেতু অমিতের কাছে বিচারকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি, তাই অমিতের ভুলে যাওয়াটা চোখে লেগেছিল বেশি। দর্শকেরা তো আর কোন পর্বে কে ভালো গাইল বিবেচনা করেন না। তাঁরা তাঁদের প্রিয় প্রতিযোগীকে যেকোনো মূল্যে বাঁচান। এই হিসেবে এখন অমিতের ভক্তরা প্রশান্তর ভক্তদের উদ্যমকে টেক্কা দিতে পারলেই অমিত শেষ হাসি হাসতে পারবেন।
বিচারকদের মধ্যে উদিত নারায়ণের পছন্দ প্রশান্ত। সরাসরি না বললেও বাকি তিন বিচারক জাভেদ আখতার, আলিশা চিনয়, অনু মালিক, এমনকি দুই উপস্থাপক মিনি ও হুসেন অমিতের অন্ধভক্ত। এবারই অমিতের দ্বিতীয় গান শেষে চার বিচারক দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানিয়েছিলেন। এমনকি অতিথি বিচারক বিপাশা বসু কোনো রাখঢাক না করে বলেন, ‘আমি অমিতের জন্যই প্রার্থনা করব।’ অনু মালিক প্রায় প্রতি পর্বেই বলেন, ‘অমিত আমার ইন্ডিয়ান আইডল।’ জাভেদ আখতারের মতে, কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফির পর বলিউড আরেকজন মেধাবী শিল্পী পেল। গত দুবারের বিচারক সোনু নিগম বলেন, নিঃসন্দেহে তিন বছরের ইন্ডিয়ান আইডল আয়োজনের শ্রেষ্ঠ অর্জন অমিত পল। এত কিছুর পরও বলা মুশকিল-কে হবেন ইন্ডিয়ার আইডল। তবে সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর দুই দিন। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতেই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭


Post Your Comments