১০ বছর পর ঢাকা মাতালেন গানওয়ালা
![]()
‘প্রথমত আমি তোমাকে চাই, দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই, তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই, শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই…।’ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এ গান গেয়ে কোটি বাঙালি শ্রোতার মন জয় করেছিলেন কবীর সুমন (সুমন চট্টোপাধ্যায়)। তারপর থেকে একে একে তার হাত দিয়ে লেখা হয় বাংলা গানের অবিস্মরণীয় সব পঙ্ক্তি।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ শিল্পী দীর্ঘ ১০ বছর পর গতকাল ঢাকায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে একক কনসার্ট করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা প্রায় ৮০০ দর্শককে মাতিয়ে রাখেন। মাস কয়েক আগে সুমন তার স্ত্রী দেশের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসার পর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কনসার্টে গান পরিবেশন করেন। তবে ১৯৯৯ সালের পর এটিই তার প্রথম একক কনসার্ট। ১৯৯৯ সালে সুমন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণে ফান্ড সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশে একাধিক কনসার্ট করেছিলেন।
‘ওয়ানম্যান ব্যান্ড’ বলে খ্যাত কবীর সুমন মূলত যতোক্ষণ মঞ্চে থাকেন, তিনি একাই শাসন করেন। কারণ গানের সঙ্গে যন্ত্র বলতে তিনি ব্যবহার করেন স্রেফ একটি গিটার। তবে গতকাল ছিল একটু ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক ফুয়াদ নাসের বাবুর সৌজন্যে মঞ্চে একটি কিবোর্ড রাখা হয় এবং সুমন বেশ কয়েকটি গান এ কিবোর্ড বাজিয়ে পরিবেশন করেন।
অনেকদিন পর বাংলাদেশে এসে প্রিয় অনেক মুখ দেখে সুমন তার পরিবেশনা শুরু করেন ‘অনেক দিন পর আবার চেনামুখ…’ এ গান দিয়ে। তারপর তার বিখ্যাত ‘ও গানওয়ালা আর একটা গান গাও/আমার আর কোথাও যাবার নেই’, ‘পেটকাটি চাঁদিয়াল’, ‘পাগল’, ‘পাগলা সানাই’, ‘সুফিয়া কামাল’ ইত্যাদি গান পরিবেশন করেন। ভারতের তুমুল আলোচিত নন্দীগ্রামের ঘটনা নিয়ে লেখা একটি গানও সুমন পরিবেশন করেন।
একপর্যায়ে সুমন মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান সাবিনা ইয়াসমীনকে। মঞ্চের কালো উইং পেছনে রেখে সাবিনা যখন সুমনের পাশে এসে দাঁড়ান, তখন দর্শকের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। সাবিনা ও সুমন দ্বৈতকণ্ঠে একটি নতুন গান পরিবেশন করেন। সাবিনা মঞ্চে আসার আগে ১৯৯৮ সালে আসাদুজ্জামান নূরের বাসায় বসে সুমন কীভাবে ‘মারা গেলেন’ অর্থাৎ সাবিনার প্রেমে পড়লেন, তার কিঞ্চিত বর্ণনা দেন। ‘চিরকুট’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে ‘ঢাকায় গানওয়ালা’ শীর্ষক এ কনসার্টের মিডিয়া পার্টনার ছিল একুশে টেলিভিশন।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: কবীর সুমন, ফুয়াদ নাসের বাবু, সুমন চট্টোপাধ্যায়

Post Your Comments