সেলিব্রেটির মুখোমুখিঃ অতিথি এস আই টুটুল
যায় দিন যায় একাকী… হৃদয়ের কথা মুভিতে এ গানটি গেয়ে আবারো সবার অন্তর ছুয়ে গিয়েছেন এস আই টুটুল। এলআরবি ব্যান্ডের সাবেক এ সদস্য সম্প্রতি এসেছিলেন যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্সে সেলিব্রেটির মুখোমুখিতে। সেখানে তার সঙ্গে আলাপচারিতায় এসেছিলেন দুই পাঠক গাজীপুর থেকে খন্দকার নূরুজ্জামান ও মৌলভীবাজার থেকে জালালউদ্দিন। আলাপের পাশাপাশি তারা এস আই টুটুলের অটোগ্রাফ নেন এবং একসঙ্গে ছবি তোলেন। যায়যায়দিনের মিডিয়া পার্টনার রেডিও টুডেতে পাঠক ও এস আই টুটুলের কথোপকথন সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেছেন এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগের সহসম্পাদক রেজাউর রহমান রিজভী ও ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল করিম।
আপনাকে গান করার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন কে?
মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম হেমিম, চট্টগ্রাম
এস আই টুটুল : অনেকেই। তবে আমার গানের পেছনে যার প্রেরণা সবচেয়ে বেশি তিনি হলেন আমার বড় ভাইয়ের বৌ টুনি ভাবি। ১৯৯৬ সালে টুনি ভাবি মারা গেলেও এখনো তার অনুপ্রেরণা আমার চলার পথের পাথেয়। আর এখন তো আমার স্ত্রী অভিনেত্রী তানিয়াই আমার সব কিছুর প্রেরণা।
তানিয়ার সঙ্গে কবে কোথায় প্রথম দেখা হয়েছিল?
এহেছান, শাবিপ্রবি, সিলেট
এস আই টুটুল : ১৯৯৫-৯৬ এর দিকে এলআরবির একটি কনসার্টে পরিচয় হয় তানিয়ার সঙ্গে। সেখানে সে গিয়েছিল একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিতে। এরপর বিভিন্ন শোতে দেখা হতো দুজনের। তখন তানিয়া অনেক জনপ্রিয়। আর আমি তো এলআরবির একজন সামান্য হ্যান্ডস মাত্র। আমার কাছে মনে হতো তানিয়াকে বিয়ে করার মতো স্বপ্ন দেখা সম্ভব কি না। এক সময় সে রকম একটি সুযোগ পেয়েও যাই। আমেরিকাতে একটি অনুষ্ঠানে তানিয়া আর আমি দুজনই বেশ কাছাকাছি আসার সুযোগ পাই। আর সেখানেই তানিয়াকে আমি প্রপোজ করি।
আপনি একজন বিখ্যাত গায়ক কিন' নায়ক হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু?
টিপু, সিলেট
এস আই টুটুল : অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। নাটকে অভিনয় করেছি আমি। হয়তো দেখা যাবে ভবিষ্যতে মুভিতেও অভিনয় করতে পারি। সত্যি বলতে কি অভিনয় আসলে আমার এক ধরনের শখ।
পরবর্তী কোন মুভিতে গান করছেন?
গোলাম মুহাম্মদ সো’এল, রাউজান, চট্টগ্রাম।
এস আই টুটুল : ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড ও মিউজিকের কাজ করেছি আমি। চা"চু, দাদি মা, বাশি, তুমি আছো হৃদয়ে, দারুচিনির দ্বীপ, ৯ নং বিপদ সংকেত, মনপুরা, হৃদয়ের কথাসহ আরো কিছু মুভিতে মিউজিকের কাছ শেষ করেছি বা করছি। এর মধ্যে কিছু মুভি এখনো রিলিজের অপেক্ষায় আছে। সেগুলো রিলিজ পেলেই শ্রোতারা আমার গান শুনতে পাবেন।
গান সিলেকশনে কোন বিষয়টি আপনি দেখেন?
মোহাম্মদ নুরনবী, বাগাবাড়ী, লক্ষ্মীপুর
এস আই টুটুল : গান সিলেকশনে গানের কথাকেই আমি প্রাধান্য বেশি দিই। এরপর আসে সুরের প্রসঙ্গ। আমি সব সময়ই খেয়াল রাখি, যিনি আমার গানটি শুনবেন তিনি যেন অন্তত দু’-এক লাইন গান গাইতে পারেন। সব সময়ই যে সফল হবো তা বলবো না। তবে আমি চেষ্টা করি।
আপনার গাওয়া কোন গানটি সেরা মনে হয়?
রানা, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি
এস আই টুটুল : এখনো তৈরি করতে পারিনি সেরা গানটি।
অভিনয়ে নিয়মিত হন না কেন?
সাহেদা আকতার, নাদিমপুর, চট্টগ্রাম
এস আই টুটুল : অভিনয় করি আমি শখ করেই। তাই এতে নিয়মিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ গানই আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। গানের মধ্যেই আমি বেশি ডুবে থাকতে চাই।
আপনার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত কোনটি?
বিপ্লব মিয়া, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
এস আই টুটুল : আমার স্মরণীয় কষ্টের মুহূর্ত হলো যেদিন আমি এলআরবি থেকে চলে আসি। আর স্মরণীয় আনন্দের মুহূর্ত হলো তানিয়ার হাতে যেদিন আমি ডায়মন্ডের রিং পরিয়ে বিয়ের প্রপোজ করি।
স্ত্রী ও সঙ্গিনী হিসেবে তানিয়া আপনার দৃষ্টিতে কেমন?
স্বপ্না, খুলনা ইউনিভার্সিটি
এস আই টুটুল : অসাধারণ। আমার প্রতিটি বিষয়েই সে এতো সূক্ষ্ম নজর রাখে যে তাকে ছাড়া আমি একটি মুহূর্তও কল্পনা করতে পারি না।
ব্যান্ড সঙ্গীত তরুণদের উ"ছৃঙ্খল করে- মন্তব্য করুন।
খন্দকার নুরুজ্জামান, গাজীপুর
এস আই টুটুল : কথাটি ঠিক নয়। কারণ এ কথাটি যারা বলেন তারা হলেন বয়স্ক ব্যক্তি আর তাদের জন্য নাচানাচি, চিৎকার ও উ"চ শব্দ ক্ষতিকর বলে তারা তা এড়িয়ে চলেন। এ কারণে ব্যান্ড সঙ্গীত তাদের কাছে বিরক্তিকর। অথচ দেখা যাবে তারাও তাদের তরুণ বয়সে কিন' যাত্রা দেখতেন, সার্কাস দেখতে ছুটে যেতেন পাশের গ্রামে। আর এখন বয়স হওয়ায় ব্যান্ড সঙ্গীতকে খারাপ বলছেন। অথচ তারুণ্য মানেই হলো উদ্দামতা। সবকিছু তোলপাড় করে ফেলা। তাই তারুণ্যর একটি অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যান্ড সঙ্গীত নিঃসন্দেহে বড় একটি নিয়ামক।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: SI Tutul
Post Your Comments