সুরের খেয়ায় তিন কন্যা

Posted by Bangla Music on Jan 25th, 2010 and filed under Features, Photo Gallery. 361 views. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

সুরের খেয়ায় তিন কন্যা

চৈতী মুৎসুদ্দী, সমনুর মনির ও মৌমিতা তাশরিন। চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ-২০০৯-এর তিন বিজয়ী সমনুর মনির, চৈতী মুত্সুদ্দী ও মৌমিতা তাশরিন। প্রতিযোগিতা শেষ হলেও ব্যস্ততা কমেনি তাঁদের। কেমন চলছে সংগীতাঙ্গনে তাঁদের নতুন জীবন?

কে হবেন সেরা কণ্ঠ? চূড়ান্ত পর্বের আগে ‘আনন্দ’র এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর খুঁজে পাননি মৌমিতা তাশরিন নদী ও চৈতী মুত্সুদ্দী। এখন অবশ্য দুজনই স্বীকার করে নিলেন, সমনুর মনির কোনালের সেরা হওয়া ঠিকই আছে। নদী বললেন, ‘সেরা তিনে জায়গা পাব, সে বিশ্বাস ছিল না। যা হয়েছে তাতেই আমি খুশি। আমার নাম যখন ঘোষণা করা হলো, তখন কেমন অবশ অবশ লাগছিল।’ চৈতী বললেন, ‘আমাদের চেয়ে যোগ্য বলেই কোনাল সেরা হয়েছে। আমি আমার অবস্থান নিয়ে খুশি।’ আর কোনালের কী ধারণা? ‘মঞ্চে আমার নাম ঘোষিত হওয়ার পর থেকে আমার আর কিছু মনে নেই। অতি আনন্দে কেমন যেন লাগছিল সব। সেরা কণ্ঠে প্রথম দিন পাওয়ার পাস কার্ড পেয়েও এমনই আনন্দ লেগেছিল। মাঝেমধ্যে মনে হয়, সে দিনের সেই আনন্দটিই যেন বেশি। কারণ, ফাইনালের দিন আমার নাম ঘোষণার পর কী কী হয়েছে আমার কিছুই মনে নেই।’ বলছিলেন কোনাল।
সেরা কণ্ঠ প্রতিযোগিতা তিনজনের চারপাশটা বদলে দিয়েছে অনেক। আগের সেই অখণ্ড অবসর, নিজের ইচ্ছামতো চলার পথ আর নেই। ‘চৈতী বললেন, ‘প্রতিযোগিতা শেষ হলেও আমাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। গ্রামের বাড়ি যে যাব, সে সুযোগ পর্যন্ত পাইনি।’ নদী গ্রামের বাড়িতে গেলেও আসা-যাওয়ার ওপরই আছেন। কোনালের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ‘আজ অমুক অনুষ্ঠানের শুটিং তো কাল তমুকের সঙ্গে সাক্ষাত্কার। এসব নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত আমরা। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব অনেকে তো অভিমান করে বলেছেন, সেরা কণ্ঠ না হলেই ভালো হতো। তাহলে কোনালের একটু সময় অন্তত পাওয়া যেত।’ এটা যে তাঁদের অভিমানের কথা, কোনাল সেটা ভালোই বোঝেন; কিন্তু করার কিছু নেই।
‘আমার সামনে পুরো জীবন এখনো পড়েই আছে। তাই ভেবেচিন্তে এগোতে চাই। গান গেয়ে যাব। কিন্তু আমার ইচ্ছা চারুকলায় পড়ার। সেভাবেই নিজেকে তৈরি করছি’—নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা এভাবেই জানালেন নদী। চৈতী অবশ্য প্রকৌশলে পড়া শেষ করতে করতে সুবীর নন্দীর কাছে গান শিখতে চান। হতে চান পূর্ণাঙ্গ শিল্পী। আর কোনাল? ‘ভারতের এ আর রহমান ইনস্টিটিউটের পরবর্তী সেমিস্টারে পড়তে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য একটা বড় পাওয়া। পশ্চিমা উচ্চাঙ্গসংগীত শেখার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি নিজেকে একজন সংগীতায়োজক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কাজ করতে চাই মিউজিক হিলিং নিয়ে। সংগীতের মাধ্যমে চিকিত্সা করার এই পদ্ধতি আমি বাস্তবেও প্রয়োগ করতে চাই’—বলছিলেন কোনাল।
নদী জানালেন, ফাইনাল তাঁর নিজের শহর রাজশাহীতে হয়েছে। সেরা তিনে জায়গা পাওয়া নদীকে নিয়ে শহরবাসীর গর্বের শেষ নেই। রাস্তাঘাটে দেখা হলেই সবাই তাকিয়ে দেখছেন। কেউ কেউ কাছে এসে কথাবার্তাও বলছেন। তবে সবচেয়ে মজা লেগেছে স্কুলে গিয়ে। আমার বন্ধুবান্ধব, অন্য ক্লাসের ছাত্রীরা—সবাই এত ভালোবাসা দেখিয়েছে, কী বলব। স্যার-ম্যাডামদের আদরের মাত্রা না দেখলে আমি বিশ্বাসই করতাম না, সবাই আমাকে এত ভালোবাসেন’—বলছিলেন নদী। প্রসঙ্গত, কোনাল ধানমণ্ডি বন্ধুসভার এবং নদী রাজশাহী বন্ধুসভার সদস্য।
চট্টগ্রামে এখনো ফেরা হয়নি চৈতীর। কিন্তু বন্ধুদের, পরিচিতদের ভালোবাসা ফোনের মাধ্যমে প্রচুর পাচ্ছেন। চৈতী বললেন, ‘আমার গান যদি মানুষের ভালো না লাগত, তাহলে এখানে হয়তো আসতে পারতাম না। যাঁরা আমাকে, আমার গানকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।’ একই কথা বললেন কোনালও। এরই মধ্যে দুটি চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকের কাজ করে ফেলেছেন কোনাল। ‘এত দিন দর্শকের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। তবে এখন সত্যিকার পরীক্ষা আমাদের। এখানে পুরো বিচারের দায়িত্ব শ্রোতাদের। গান গেয়ে তাঁদের মন জিতে নেওয়াই এখন প্রতিদিনের যুদ্ধ।’ সে যুদ্ধে তিনজনই নাম লেখাতে চান জয়ীর খাতায়।

পার্থ সরকার
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ২১, ২০১০

Tags: , , , , ,

Related News:

Leave a Reply

Login with Facebook:

Bangla Music : Incoming search terms

bangladashi song (1) -
Advertisement