সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চান লোপা
ক্লোজআপ ওয়ান ২০০৫ এ শীর্ষ দশে পৌছে গিয়েও দ্বিতীয় পর্যায়ে বাদ পড়ে শীর্ষ ষোলতে ঠাই হয় তার। আবৃত্তি ও অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা থাকলেও গানটাই তার প্রাণ ছিল। বর্তমানে এটিএন বাংলার নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
গান ও নিউজ প্রেজেন্টেশন দুটিকে কিভাবে দেখেন?
আসলে আমার কাছে কাজ দুটি পুরোপুরি ভিন্ন। নিউজ প্রেজেন্টেশনটা আমার পেশা যা খুব অল্পদিন হলো করছি। আর গানের প্রতি অনুরাগ ছোটবেলা থেকেই। তাই গানটাকে আমার নেশাই বলতে হবে।
একজন ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগী হিসেবে এটিকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এটা স্বীকার করতেই হবে যে ক্লোজআপ ওয়ানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভাবান শিল্পী বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এ প্রতিযোগিতার ফাক-ফোকরের কারণে অনেক যোগ্য শিল্পী বাদ পড়ে গেছে। ফলে অনেকেরই মনোবলটা নষ্ট হয়ে গেছে।
কি ধরনের ফাক-ফোকর?
এই যেমন আমাদের সময় যতো খুশি এসএমএস করার বিষয়টা। আবার বিচারকদের হাতে ক্ষমতা কম রাখা। সাধারণ মানুষের আবেগ প্রভৃতি। এ ক্ষেত্রে দর্শকদের এসএমএসের ওপর ফলাফল নির্ভরতা ২০-২৫% রাখলে সবচেয়ে ভালো হতো।
আপনি তো টপ টেনে পৌছেও বাদ পড়েছেন এ সম্পর্কে কি বক্তব্য?
এটা আমার দুর্ভাগ্য অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। তবে আমি হতাশ হইনি মোটেই। হাজার হাজার দর্শকের এসএমএস আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে একটু তো আক্ষেপ আছেই। কারণ আমি মনে করি এখনকার টপ টেন শিল্পীরা যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গাইছে সেখানে গান করার যোগ্যতা আমারো ছিল।
আপনার প্রথম অ্যালবামটি বের হয়েছে প্রীতমের কথা-সুর-সঙ্গীতে। আপনি তাকে কেন বেছে নিলেন?
আসলে প্রীতম যে ধরনের গান করেন তা বাংলাদেশে ছেলেদের মধ্যে দুই চারজন ইদানীং শুরু করলেও মেয়েরা কেউ এ ধরনের গান করে না। সেই নিয়ম ভাঙার জন্যই আমি ব্যতিক্রমধর্মী গান করার ব্যাপারে আগ্রহী হই।
এই কাজে নিজেকে কতোটা সফল মনে করেন?
অনেকটাই সফল বলবো নিজেকে। কারণ নিয়ম ভাঙলেও প্রীতম ভাইয়ের পরামর্শে অ্যালবামে বিরহী ও চটুল ধারার গানও ছিল। ১০টি গানের মধ্যে দুটি গান শাকিল মঞ্জুর ও মাহমুদ খুরশীদের লেখা। এ অ্যালবামের তিনটি গান আড়ি, জন্মদিন, ভালো ছাত্রী এগুলো রেডিও টুডের সুবাদে ইতিমধ্যেই ভালো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এ গানগুলোর মিউজিক ভিডিও খুব শিগগিরই চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে।
বর্তমানে সাংবাদিকতা পড়ছেন সেটাকেই কি পেশা হিসেবে নেবেন?
আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী। পেশা হিসেবে ওটাকেই নেয়ার ই"ছা। আর নেশা হিসেবে গানটাতো থাকছেই।
আমাদের বাজারে হিন্দি গানের জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে আপনার কি মন্তব্য?
আসলে গান হচ্ছে মনের শান্তির জন্য। তাই ভালো লাগাটা বেধে রাখা যায় না। হিন্দি বা ইংরেজি গান কেউ শুনতেই পারে। তবে যেটা দরকার সেটা হলো একটা সুষ্ঠু নীতিমালা। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করতে হবে। আবার আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলা গানে হিন্দি কথা ঢোকাচ্ছে এটা খুবই বিশ্রী একটা ব্যাপার।
অভিনয়ের ইচ্ছা আছে?
আমি তো ছোটবেলা থেকেই অভিনয় আবৃত্তিতে অভ্যস্ত ছিলাম। তবে এখন যেহেতু সংবাদ পাঠ করি তাই যথেষ্ট বাইন্ডিংস আছে। বেশ কয়দিন আগে বাদল খন্দকার তার একটি মুভিতে আমাকে কাজ করার অফার দিয়েছিলেন। কিন' মুভিতে নাচ-গান থাকায় আমি শেষ পর্যন্ত রাজি হতে পারিনি। এছাড়াও বিটিভি ও চ্যানেল আইয়ের জন্য বেশ কয়েকটি নাটকের অফার এলেও কাজ করা হয়নি। তবে আমার একান্ত ই"ছা হুমায়ূন আহমেদের একটা নাটকে অভিনয় করা। জানি না সুযোগটা আমি পাবো কি না তবে পেলে খুবই খুশি হবো।
ভবিষ্যতে কি করতে চান?
আমার একান্ত ইচ্ছা একটি সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ গঠন করবো। যাতে করে তাদের নিজেদের সংগৃহীত অর্থে কোনো অসহায় শিল্পী বিপদকালে সহযোগিতা পায়। সরকার বা অন্য কারো কাছে হাত পাততে না হয় এবং বিনা চিকিত্সায় যেন কেউ মারা না যায়।
এছাড়াও ভবিষ্যতে নির্মাতা হওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে সেটা অনেক পরে। এর আগে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিয়ে নেবো।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।

Post Your Comments