শিল্পী সম্মানী বন্ধ কি হবে বিটিভির
বিটিভি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের একমাত্র বিনোদন মাধ্যম। সারাদেশে স্যাটেলাইট সুবিধা না থাকায় বিটিভির দর্শকসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ সরকারি গণমাধ্যমটির বিভিন্ন অনিয়ম ও অরাজকতা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একাধিকবার লেখালেখি করার পরও অবস্থার তেমন হেরফের হওয়ার কোনো নমুনা দেখা যাচ্ছে না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৮-এর মে থেকে শিল্পী সম্মানী দেয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসে এ সম্মানী বাজেটে ঘাটতি দেখা দেয়। যদিও বিটিভির বার্ষিক আয় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা। এ আয় থেকে শিল্পী সম্মানী বাবদ অর্থ বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকাটাই বাঞ্ছনীয়। বেশ অনেকদিন থেকেই শিল্পী সম্মানী প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলেও তা যথাযথভাবে দেয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিটিভিতে সময় ও শ্রেণী অনুযায়ী শিল্পী সম্মানী দেয়া হয়- যেমন বিশেষ শ্রেণী, উচ্চ শ্রেণী, ক শ্রেণী, খ শ্রেণী- এভাবে শ্রেণীগতভাবে শিল্পী সম্মানী নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ শ্রেণী বা উচ্চ শ্রেণীর হাতেগোনা দুচারজন শিল্পী যথাযথ সম্মানী পেলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয় না। লক্ষণীয় যে, একটি অনুষ্ঠানের জন্য শিল্পী সম্মানী বাড়ানো হলেও পুরো অনুষ্ঠানের বাজেট আগের পর্যায়েই আছে। ফলে দু’একজনকে ঠিকঠাক মতো সম্মানী দেয়া হলেও অন্যরা বঞ্চিত হন। এ কথা সবাই মানেন, বিটিভির আয়ের শতকরা ২৫ ভাগও শিল্পী সম্মানী খাতে ব্যয় হয় না। প্রতি বছরই অর্থবছর শেষে শিল্পী সম্মানীর অর্থ সঙ্কট দেখা যায়। এছাড়া অন্য সব খাত ঠিকঠাকমতো চললেও শুধু এখানেই প্রতি বছর গোলযোগ হওয়া একটি অলিখিত নিয়মে দাঁড়িয়েছে। এ বছর যেন সেই সময়ের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিটিভিতে প্রতি বছর চারটি প্রান্তিকে ভাগ করে অনুষ্ঠান বরাদ্দ দেয়া হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ, এপ্রিল থেকে জুন, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এভাবে ভাগ করা থাকলেও কোনো বছরই সঠিক সময়ে প্রান্তিক শুরু হয় না। এছাড়াও যথাযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অনুষ্ঠান বণ্টন হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রান্তিক বণ্টনে চেনামুখ, লবিং, গ্রুপিং, প্রাধান্য পায় এবং অনৈতিক ব্যবসার সুযোগ নেয়া হচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে জানা যায়।
অভিজ্ঞমহলের প্রশ্ন- বিটিভিতে কেন তিন মাস পরপর অনুষ্ঠান বণ্টন করা হবে? কেন সেটা ১ মাস বা ৩০ দিনে হতে পারে না? এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান শুধু নয় সরকারি গণমাধ্যম, যা কি না সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম। তাই বিটিভির উচিত তিন মাসে নয়, প্রতি মাসে স্বচ্ছতার সঙ্গে অনুষ্ঠান বণ্টন করা। তাতে অনেক নতুন ও যোগ্য নির্মাতা এগিয়ে আসবেন এবং অনুষ্ঠানের মানে উত্তরণ ও বৈচিত্র্য আসবে। বিটিভির অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ধরন দেখে মনে হয় বিটিভি কর্তৃপক্ষ দর্শকদের জন্য নয়, নিজেদের ইচ্ছা ও খুশিমতো অনুষ্ঠান প্রচার করতেই বেশি আগ্রহী। অথচ বিটিভি পরিচালিত হয় জনগণের করের অর্থে। সুতরাং ব্যক্তির ইচ্ছা নয়, দর্শকদের কথায় গুরুত্ব দিতে হবে। এর জন্য অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা দূর করা জরুরি। আর কোনো শিল্পীর দায় পড়েনি নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার। একজন সৃজনশীল মানুষের শ্রমের মূল্য দিতে যদি গড়িমসি করা হয় তবে ভবিষ্যতে আর কেউ সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে না। কারণ এখন শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র বেড়েছে বই কমেনি। সুতরাং বিটিভি কর্তৃপক্ষ তাদের হীনম্মন্যতা কাটিয়ে শিল্পী সম্মানীর ব্যাপারে যৌক্তিকভাবে উদার হবেন এবং শিগগির চেক প্রদান শুরু করবেন- এটাই সবাই আশা করে।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: বিটিভি

Post Your Comments