শিরোনামহীন : টেবিল থেকে স্টেজে
শিরোনামহীন বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডদল। একটা সময় এ ব্যান্ডটি শুধুমাত্র ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই রাজত্ব করতো। এখন তারা ইউনিভার্সিটির গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ তরুণ সমাজের কাছে প্রিয় একটি নাম। সম্প্রতি শিরোনামহীন ব্যান্ড দলের পুরো টিম অর্থাৎ জিয়াউর রহমান, তানযীর তুহিন, কাজী শাফিন আহমেদ তুষার, রাজীব আহমেদ এসেছিলেন যায়যায়দিন অফিসে। শিরোনামহীন ব্যান্ড দলের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মনজুর জিয়া ও আফতাব আলী ভূঞা।
যায়যায়দিনের সুকুমার পার্কে শিরোনামহীনের সদস্যরা ছবি : ইমরুল কামালএকসঙ্গে এ পাচজন থাকবো সারা জীবন- তানযীর তুহীন।
সারা জীবন কাজ করে যাবো এই শিরোনামহীনের সঙ্গে- জিয়াউর রহমান।
জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করবো এ ব্যান্ডের সঙ্গে- কাজী শাফিন আহমেদ।
এ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে যেন সব সময় টিকে থাকতে পারি- তুষার।
ভালো গানের সঙ্গে যেন নিজেকে জড়াতে পারি- রাজীব আহমেদ।
অনেকটা এ লক্ষ্য নিয়েই ২০০০ সালে এ ব্যান্ডটির নতুন করে যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু এ ব্যান্ডটির জন্ম হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। শিরোনামহীন নামটির জন্ম হয়েছিল কিছু শিরোনামহীন গান ও শিরোনামহীন শ্রোতার ওপর ভিত্তি করে।
শিরোনামহীন নামের এ ব্যান্ডটি শুরু হয়েছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস থেকে। যেখানে প্রথমে গান গাওয়া হতো টেবিল চাপড়ে; এরপর একটি একুয়েস্টিক গিটার; এভাবে আস্তে আস্তে এ ব্যান্ড দলটি যাত্রা শুরু করে।
শিরোনামহীন ব্যান্ডটি প্রথম গান গাইতো ঢাকা নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে। এ নাট্য দল যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে নাটক করতো তার আগে তারা বিভিন্ন ধরনের গান করতো। শিরোনামহীনেন ব্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পেছনে রয়েছে শ্রোতাদের প্রচণ্ড ভালোবাসা। শুরুর দিকে শুধু জিয়াউর রহমান ছাড়া আর কেউ নেই।
এরপর নতুন করে পথচলা। এ নতুন পথের যাত্রী হলেন তানযীর তুহীন ভোকাল, রাজীব আহমেদ কিবোর্ড, কাজী শাফিন আহমেদ ড্রামস, তুষার লিড গিটার আর শিরোনামহীনের সেই প্রথম পথযাত্রী জিয়াউর রহমান বেইজ।
শিরোনামহীনের সবাই প্রফেশনে কেবল ব্যান্ডের তারকাই নন, ব্যক্তিগত জীবনে একেকজন পৃথিবী গড়ার কারিগরও বটে।
জিয়াউর রহমান বুয়েট থেকে পাস করা একজন আর্কিটেক্ট। তানযীর তুহীন বুয়েট থেকে পাস করা আর্কিটেক্ট। রাজীব আহমেদ ডাক্তার। কাজী শাফিন আহমেদ আর্কিটেক্টের ছাত্র এবং তুষার বুয়েট থেকে পাস করা আর্কিটেক্ট। একজন ছাড়া বাকিরা আর্কিটেক্ট।
শিরোনামহীনের এ আর্কিটেক্ট পরিবার দালানকোঠা তৈরির পাশাপাশি ভালো গান করারও দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন।
একটি ভালো গান বলতে তারা বোঝেন, একটি ভালো লিরিক এবং মিউজিকের ভালো মিশ্রণ। আর মিউজিকের ক্ষেত্রে তারা সব সময় একুয়েস্টিক ও ইলেকট্রিক মিউজিকের সমন্বয়কে বেশি প্রাধান্য দেন।
পৃথিবীতে শুধু শিরোনামহীনই নয়, সব মিউজিক ব্যান্ডের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে মিউজিক পাইরেসি বন্ধ করতে হবে বলে তারা মনে করেন। এ জন্য সরকারকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে এবং এর পাশাপাশি ক্রেতাদের পাইরেটেড ক্যাসেট ও সিডি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এ সময় অনেক নতুন ব্যান্ডের আবির্ভাব হচ্ছে; কিন্তু তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এর প্রধান কারণ মিউজিক সম্পর্কে জানার অভাব। শিরোনামহীন মনে করে, গান হচ্ছে সবার জন্য। এখানে বয়স কোনো কারণ হতে পারে না।
শিরোনামহীন আরো মনে করে, তারা সারা জীবনে যদি একটি গানও মানুষের মুখে দিয়ে যেতে পারে তবেই তারা সার্থক।
শিরোনামহীনের প্রথম গানের অ্যালবামের নাম জাহাজী যা ২০০৩-এ প্রকাশিত হয়। ২০০৫-এর দিকে ইচ্ছে ঘুড়ি প্রকাশিত হয় এবং ২০০৮-এর প্রায় শেষের দিকে আরেকটি অ্যালবাম আসছে।
মানুষের চাহিদাকে মাথায় রেখে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে সারা জীবন ভালো গান গাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে শিরোনামহীন।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: শাফিন আহমেদ, শিরোনামহীন
Post Your Comments