ত্রিশ বছর পূর্তির রেশ কাটতে না-কাটতে হুট করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড মাইলস ছেড়ে দিলেন ব্যান্ডের মূল ভোকাল শাফিন আহমেদ। ব্যান্ডের অধিকাংশ জনপ্রিয় গানই তাঁর গাওয়া। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে শাফিনবিহীন মাইলসের এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে? হঠাত্ ব্যান্ড ছেড়েই বা দিলেন কেন? শাফিন আহমেদ জানালেন, ‘বেশ কিছু ব্যাপার নিয়ে অনেক দিন ধরেই আমাদের মধ্যে মতের অমিল হচ্ছিল। শুধু গান করার জন্য ব্যান্ড করা নয়। আরও অনেক ব্যাপার থাকে। সেই সমন্বয়টা না থাকলে ব্যান্ডে থাকার মানে হয় না। এ কারণেই ব্যান্ড ছেড়ে দিলাম। এখন নিজের মতো করে গান করব।’ এর বাইরে তেমন কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।
তবে মাইলসের অন্য সদস্যরা মনে করছেন, শাফিনের অনুপস্থিতি দলে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। হামিন আহমেদ বললেন, ‘ব্যান্ড কারও একার বিষয় নয়। ত্রিশ বছর আগে মাইলসের শুরুতে আমরা কেউই ছিলাম না। সবাই পরে যোগ দিয়েছি। এর আগে-পরে কি মাইলস সুন্দরভাবে চলেনি?’ তাঁদের দাবি, পড়াশোনার জন্য শাফিন পাঁচ বছর দেশের বাইরে ছিল। ওই দীর্ঘ সময়টা ব্যান্ড ভালোভাবেই চলেছে। ব্যান্ডের সবাই আশা করছেন, এখনো সে রকমই চলবে। ‘আমরা মাইলস তৈরি করিনি। বরং মাইলস আমাদের তৈরি করেছে। তাই কেউ চলে গেলেই যে মাইলস শূন্যতায় পড়বে, তার কোনো কারণ নেই। কেউ যদি ভাবে যে আমিই মাইলস; সেটা তাঁর নিজের সমস্যা। আমাদের প্রত্যেকে অনেক যোগ্য সদস্য। সবাইকে আমরা সমান চোখে দেখি। কারণ, সবাই ব্যান্ডের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। এককভাবে তাঁরা নিজ নিজ জায়গায় সেরা। মাইলস তাঁদের তৈরি করেছে, ভবিষ্যতে আরও তৈরি করতে পারবে।’ বললেন হামিন আহমেদ।
শাফিন আহমেদ একে একে চারটি একক অ্যালবাম বের করেছেন। এ ছাড়া যুক্ত আছেন ব্যক্তিগত নানা কাজে। মূল সমস্যা কি তবে ব্যান্ডের পাশাপাশি একক ক্যারিয়ার? মানাম আহমেদ বললেন, ‘আমি পেশাদারভাবে মিউজিক করলেও ব্যান্ডকে সব সময় আলাদা জায়গা দিয়েছি। এ কারণে দলের বাইরে পুরুষ কণ্ঠের জন্য আমার কম্পোজিশন খুব কম। যাতে করে ব্যান্ডের সঙ্গে কোনো বিরোধ না হয়।’ হামিন আহমদ বললেন, ‘একক ও ব্যান্ড ক্যারিয়ার একসঙ্গে চালাতে গেলে সতর্ক থাকতে হয়; নয়তো সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার ফলাফল হতে পারে মাইলসের মতো।’
শাফিন আহমেদের অবর্তমানে গড়ে ওঠা সাময়িক অসুবিধাগুলো সামলানোর জন্য এখন নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে মাইলস। ব্যান্ডের শুরুর দিকের অ্যালবামের অর্ধেক গান থাকত হামিন আহমেদের গলায়। এখন থেকে সব গানই করবেন তিনি।
ভবিষ্যতে নতুন বেইজিস্ট আসতে পারে দলে। আপাতত হামিন আহমেদ, মানাম আহমেদ, সৈয়দ জিয়াউর রহমান ও ইকবাল আসিফ—এই লাইনআপ নিয়েই নতুনভাবে যাত্রা করতে যাচ্ছে মাইলস।
ফিডব্যাক ছাড়লেও মাকসুদ তাঁর গাওয়া দলের জনপ্রিয় গানগুলো সবখানে গাইছেন। শাফিন আহমেদও কি মাইলসে তাঁর গাওয়া গানগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাইতে পারবেন? ‘আমি জানি না, মাকসুদ ও ফিডব্যাকের কী রকম সমঝোতা হয়ে আছে। তবে এখন কপিরাইট আইন আছে। মাইলসের অধিকাংশ জনপ্রিয় গান শাফিন গাইলেও গানগুলোর সুর আমার করা। এই গানগুলো মাইলসের সম্পদ। ব্যান্ডের নামে কপিরাইট করা। তাই ব্যান্ডের বাইরে কেউ গানগুলো করতে পারবে না। তবে শাফিন আহমেদ তাঁর নিজের সুর করা গানগুলো গাইতে চাইলে গাইতে পারে। সে ব্যাপারে ব্যান্ডের আপত্তি থাকবে না।’ বলছিলেন মানাম আহমেদ।
শাফিন আহমেদের গলায় মাইলসের জনপ্রিয় গানগুলো শ্রোতারা হয়তো মিস করবে। তবে নিশ্চিতভাবেই হামিন-শাফিন-মানাম এই তিনজনকে একমঞ্চে না দেখতে পারাটা হবে তাদের জন্য আরও হতাশার।
হামিন আহমেদের কাছে জানতে চাই ব্যান্ড সদস্য হিসেবে নয়, ভাই হিসেবে তাঁর অনুভূতি। ‘ভাই হিসেবে আমি খুবই হতাশ। এ রকমটা না করলেই পারত। ভবিষ্যতে ওকে মঞ্চে অনেক মিস করব। তবে কারও জন্য কিছু থেমে থাকে না। মাইলসও থেমে থাকবে না। শুধু পাশে চাই ভক্ত শ্রোতাদের।’
ছবিতে: হামিন আহমেদ, মানাম আহমেদ, শাফিন আহমেদ, ইকবাল আসিফ ও সৈয়দ জিয়াউর রহমান
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ২১, ২০১০
Tags: মাইলস, মানাম আহমেদ, শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ
Related News:
Leave a Reply