শহরতলীর আলো একটি অসাধারণ নাটক : পার্থ বড়ুয়া

Partha Baruaআজ রাত ৮টায় আরটিভিতে প্রচারিত হবে শিবু কুমার শীলের রচনা ও মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় এক পর্বের নাটক শহরতলীর আলো। নাটকটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্যান্ড শিল্পী পার্থ বড়ুয়া। শহরতলীর আলো ও অন্যান্য প্রসঙ্গে পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন টি আই অন্তর।

এই প্রথম কোনো খণ্ড নাটকে অভিনয় করেছেন, কেমন লাগছে?
অন্য রকম, একেবারে অন্য রকম অনুভূতি। এ রকম ভিন্ন ট্র্যাকের একটি নাটকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, এটাকে আমার সৌভাগ্য বলে মনে হচ্ছে। নাটকটি আরটিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত হচ্ছে। এটাই আরটিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর একমাত্র নাটক।

কেমন ভিন্ন? দর্শকরা এ নাটকে ভিন্ন রকম কি দেখতে পাবেন?
নাটকটি চার্লি চ্যাপলিনের বিখ্যাত মুভি সিটি লাইটস-এর ছায়া অবলম্বনে করা। সিটি লাইটসের কিছু অরিজিনাল ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে। সিটি লাইটসের চরিত্রগুলোর ভাষা ছিল নির্বাক। এখানে সেটা সবাক। যারা সিটি লাইটস দেখেছেন, তারা এমনিতেই বুঝতে পারবেন। যারা দেখেননি, তারা নাটকটি দেখলে হয়তো বুঝবেন। তবে কিছু দর্শক হয়তো প্রথমে বুঝতে পারবে না। এ ধরনের নাটক বোঝার জন্য আসলে প্রখর অনুভূতি দরকার। চিন্তা-চেতনার মান কিছুটা উচু লেভেলে থাকা দরকার। আমাদের এখানে ওই লেভেলের দর্শকের সংখ্যা তো কম। এটা একটা ফিকশন টাইপ নাটক। নটিং হিল, কাসাব্লাংকা, গন উইথ দি উইন্ড, অ্যান অ্যাফেয়ার টু রিমেম্বার, সাবরিনা প্রভৃতি মুভি যারা দেখেছেন, শহরতলী তাদের খুবই ভালো লাগবে। শহরতলী একটি অসাধারণ নাটক।

আপনার চরিত্রের নাম সাজ্জাদ। সাজ্জাদ সম্পর্কে বলুন।
সাজ্জাদ একজন ব্যবসায়ী, অ্যাড ফার্মের মালিক। তবে তার চিন্তা-চেতনা পুরোপুরি ঝানু ব্যবসায়ীদের মতো নয়। তার ভেতরে একটা অন্য রকম মানুষ আছে। সে কিছুটা উদাসী, অন্যমনস্ক আর ভাবুক প্রকৃতির।

আপনার সহ-অভিনেত্রী জয়া আহসান। তার চরিত্রের নাম মুক্তা। মুক্তার সঙ্গে সাজ্জাদের সম্পর্কটা কেমন?
মুক্তা একজন অন্ধ ফুল বিক্রেতা। সব সময় ম্লান চেহারা কিন্তু সুন্দরী সে। বিজয় সরণির মোড়ে প্রতি দিন সে ফুল বিক্রি করে। তার সঙ্গে তার ছোট বোন শিউলি থাকে। প্রতি দিন সিগনালের সময়টাতে সাজ্জাদ মুক্তার কাছ থেকে ফুল কেনে। শিউলি মেয়েটি তখন বেজায় খুশি হয়। তবে মুক্তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে না। সাজ্জাদ ধীরে ধীরে মুক্তার ফুলের একজন নিয়মিত ক্রেতা হয়ে ওঠে। দুজনের মধ্যে তেমন কোনো সম্পর্ক নয় বরং একটি অভ্যস্ততা গড়ে ওঠে। তবে মুক্তার প্রতি এক ধরনের আবেগ তৈরি হয় সাজ্জাদের। মুক্তাও এক সময় সাজ্জাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠে।

দুজনের এ আবেগ বা অনুরাগের শেষ পরিণতি কি হয়?
এক দিন অফিসে যাওয়ার পথে সাজ্জাদ আর মুক্তাকে দেখতে পায় না। তার কিছুটা খারাপ লাগে। কিছুটা অস্থিরতা বোধ করে সে। ফেরার পথেও একই দৃশ্য। এভাবে কিছু দিন চলে যায়। তাদের আর দেখা যায় না। এক সময় সাজ্জাদও প্রায় ভুলে যায় তাদের। কিন্তু এক দিন এক সন্ধ্যায় বিষণ্ন সাজ্জাদ আবার তাদের দেখতে পায়। সেদিন ছিল সাজ্জাদের জন্ম দিন। সাজ্জাদ মুক্তা ও শিউলিকে রেস্টুরেন্টে খাওয়ায়। সাজ্জাদ এক সময় প্রবলভাবে চায় মুক্তা তার দৃষ্টি ফিরে পাক। প্রথমে রাজি না হলেও পরে সাজ্জাদের সাহায্য নিতে রাজি হয় মুক্তা। এরপরের ঘটনাগুলো বেশ নাটকীয়। সাজ্জাদের জীবনে একে একে অনেক বিপর্যয় ঘটে। বাবার মৃত্যু, সম্পত্তি আত্মসাৎ, ব্যবসায়িক ধস সাজ্জাদের জীবনটাকে এলোমেলো করে দেয়। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময় সে গ্রামে চলে যায়। তারপর এক দিন আবার সে ফিরে আসে শহরে। উদ্দেশ্য আবার নতুন করে শুরু করা। আগের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে করতে চায় না সে। কিন্তু হঠাৎ এক দিন রাস্তার পাশের একটি ফুলের দোকানে তাকিয়ে থমকে যায় সে। ফুলের দোকানের মেয়েটিকে খুব চেনা মনে হয়। আসলে সে মুক্তা। সে তার দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে। ফুলের দোকানটি তারই। সঙ্কোচ কাটিয়ে ভেতরে ঢোকে সে। মুক্তা সাজ্জাদকে ক্রেতা ভেবে তার কাছে ফুল বিক্রি করতে চায়। সাজ্জাদ বলে, তার কাছে ফুল কেনার মতো টাকা নেই। মুক্তা তখন এমনিই একটি ফুল দিতে চায় তাকে। কিন্তু সাজ্জাদ তার কাছে একটি কালো গোলাপ দাবি করে। মুক্তা তাকে কালো গোলাপ দিতে পারে না। সাজ্জাদ বেরিয়ে যায়। গন্তব্যহীন হাটতে থাকে। বিষয়টি এভাবেই পরিণতি পায়।

বাস্তবের সঙ্গে এটা কতোটুকু সঙ্গতিপূর্ণ?
এ নাটকটি হচ্ছে বাস্তবের ফ্যান্টাসি। রোমান্টিক হলেও নাটকটি ফ্যান্টাসিতে ভরপুর। পৃথিবীর অন্যতম সেরা মুভি সিটি লাইটসে যা ঘটেছে তা আমাদের এ শহরে ঘটলে কেমন হয়, অনেক বছর পর, অন্য কোনো শহরে, অন্য দুজন মানুষের মধ্যে ঘটনাটি ভিন্ন আঙ্গিকে ঘটানোর পরিকল্পনা থেকেই এ নাটকটি তৈরি করতে চেয়েছেন নাট্যকার ও পরিচালক। এটা কোনো চায়ের টেবিলের গল্প নয়, মধ্য রাতের জোনাক পোকার গল্প নয়। এটা দুজন মানুষের বাস্তব জীবনের ফ্যান্টাসি।

পরিচালকের কাজ আপনার কেমন লেগেছে?
অসাধারণ, অসাধারণ এবং অসাধারণ। সুমন একজন অসাধারণ পরিচালক। এই নাটকে আমার কোন ক্রেডিট নাই। অল ক্রেডিট গোজ টু সুমন। আই ডোন্ট নো হোয়াট আই ডিড।

ভবিষ্যতে আরো নাটক করার ইচ্ছা আছে কি?
না। তবে সুমন যদি চায় আর এ রকম অফ ট্র্যাকের কোনো স্ক্রিপ্ট যদি পাই তাহলে অবশ্যই করবো।

এবার বলুন, সোলস-এর কি খবর?
সোলস-এর নতুন অ্যালবাম রেডি। জানুয়ারীর শেষ সপ্তায় অ্যালবামটি বাজারে আসবে। অ্যালবামের নাম জ্যাম।

সূত্রঃ যায়যায়দিন।

Bangla Music Tags: , ,

Related posts

Post Your Comments

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Bangla Music : Incoming search terms

  • partho Barua
  • (3) -
  • banglanatok
  • (2) -
  • partha barua bangla natok
  • (1) -
  • evergreen bangla natok
  • (1) -
  • bangla natok partha barua
  • (1) -
  • partho barua natok
  • (1) -
  • bangla natok+partho
  • (1) -
  • natok 69 evergreen
  • (1) -