বিচারকদের সামনে শেষবারের মতো গাইতে এসে ঝিলিক গেয়েছিলেন ‘ও কি ও বন্ধু কাজল ভোমরা রে’ গানটি। গান শেষে বিচারকের আসনে বসে থাকা রুনা লায়লার মন্তব্য ছিল, তোমার গান শুনে ভ্রমর যেতে পারে না, আসবেই! এই মন্তব্যের যোগ্য যে ঝিলিক তা বোঝা গেল কিছু সময়ের মধ্যেই। গতকাল শনিবার রাতে চূড়ান্ত বিজয়ী হয়ে রংপুরের মেয়ে ঝিলিক (জানিত আহমেদ ঝিলিক) প্রমাণ করলেন, গান শুনিয়ে মন হরণের যথেষ্ট যোগ্যতা তাঁর আছে।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত চ্যানেল আইয়ের সেরা কণ্ঠশিল্পীর তালিকায় এর পরেই যৌথভাবে আছেন ইমরান ও রোমেল। তৃতীয় হয়েছেন শারমিন। গতকাল জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অনুষ্ঠানের শুরুতে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর স্বাগত বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের পরেই মঞ্চে আসেন বরেণ্য শিল্পী সুবীর নন্দী। সঙ্গে প্রতিযোগিতার শীর্ষ ১৯ জন প্রতিযোগী। কবির বকুলের লেখা এবং তাঁর নিজের সুরারোপিত ‘আজ সবাই এসেছি নতুন পথে’ গানটি পরিবেশন করেন সুবীর নন্দী। তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান ১৯ জন প্রতিযোগী।
গান শেষে জানানো হয়, সুবীর নন্দী তিন মাস অনুশীলন করিয়েছেন এই তরুণ শিল্পীদের। আবেগাপ্লুত হয়ে সুবীর নন্দী বলেন, ‘আমার সংগীতজীবনের বড় প্রাপ্তি এটা। আমার বিশ্বাস, ওরা সুরের ভুবনে স্থায়ী হবে।’
এরপর দেশাত্মবোধক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন দুই বিচারক রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমীন। শেষে তাঁদের সঙ্গে মিলিত হন প্রতিযোগিতার সেরা ১১ জন প্রতিযোগী। বাপ্পা মজুমদারের সুরারোপিত ‘এসো প্রাণ খুলে গান গাই’ গানটি পরিবেশন করেন তাঁরা।
এরপর ৩০ জন শিশুশিল্পীকে নিয়ে নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ ও শামীম আরা নীপা ‘পাঠশালা’ শিরোনামের নৃত্য পরিবেশন করেন। উপস্থাপক ফারজানা ব্রাউনিয়ার ঘোষণার মধ্য দিয়ে একে একে মঞ্চে আসেন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ চম্পা, রোমেল, ইমরান, ইউসুফ, শারমিন ও ঝিলিক। শেষবারের মতো বিচারকের মুখোমুখি হন তাঁরা। একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন লোকগীতি। ধারণকৃত সংগীতের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি পরিবেশনার সময় মঞ্চে বিচারকের আসনে ছিলেন রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন।
একপর্যায়ে মঞ্চে আসেন সেরা কণ্ঠের প্রাথমিক পর্বের বিচারকেরা। তাঁরা পরিবেশন করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গান।
সব শেষে মঞ্চে আসেন শাইখ সিরাজ। তিনি প্রতিযোগিতার আয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতাকারীদের ধন্যবাদ দেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঞ্চে আসেন ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম ও সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। অনুষ্ঠানের মৌলিক পর্বে এবং ফিরে দেখা পর্বে গাওয়া সেরা ১১ জন প্রতিযোগীর গানের অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন তাঁরা।
এর পরই ঘোষণা করা হয় ‘সেরা কণ্ঠ ২০০৮’-এর নাম। বিচারকদের দেওয়া নম্বরের ৬০ শতাংশ এবং দর্শকের দেওয়া ভোটের ৪০ শতাংশ নিয়ে নির্বাচন করা হয় বিজয়ীদের। প্রথমে ঘোষণা করা হয় তৃতীয় স্থান অধিকারী শারমিনের নাম। পর্যায়ক্রমে আসে রোমেল, ইমরান এবং শীর্ষস্থান অধিকারী ঝিলিকের নাম। চূড়ান্ত বিজয়ী আবেগাপ্লুত ঝিলিকের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয় বিজয়ের মুকুট। বিজয়ীদের সবাইকে পরিয়ে দেওয়া হয় উত্তরীয়।
সেরা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ঝিলিক পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থান অধিকারী রোমেল ও ইমরান যৌথভাবে পাচ্ছেন সাত লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অধিকারী শারমিন পাচ্ছেন তিন লাখ টাকা। এ ছাড়া বিজয়ীরা দুবাইয়ে অনুষ্ঠেয় লাক্স-চ্যানেল আই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। চ্যানেল আইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁরা গানের অ্যালবাম প্রকাশের সুযোগ পাবেন। সুযোগ পাবেন সুবীর নন্দীর কাছে প্রশিক্ষণের।
‘গানে আওয়াজ তোলো প্রাণে’ স্লোগান নিয়ে এ বছরের ৪ এপ্রিল দুই বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম ও বরিশাল থেকে সংগীত প্রতিভা অন্বেষণ ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ ২০০৮’ শুরু হয়েছিল।
সূত্রঃ প্রথম আলো।
Tags: কবির বকুল, বাপ্পা মজুমদার, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, সুবীর নন্দী
Related News:
thank you
jhcfgdcf
Chennel i serakantho winer’s zhilik it was really goodjob i am so happy for Zhilik i loved her songs