ভিন্নধর্মী গান নিয়ে শ্রোতাদের সামনে উপস্থিত হতে চাই : মেজবাহ রহমান
ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট মেজবাহ রহমান। নব্বইয়ের দশকের সাড়া জাগানো গান শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে তারই গাওয়া। দীর্ঘদিন বিরতির পর আবারো কিছু ভালো গান নিয়ে আসছেন শ্রোতাদের সামনে। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন যায়যায়দিনের চে কাফেতে। তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম শান্ত ও ছবি তুলেছেন শরীফ সারোয়ার।
গানের জগতে কিভাবে আসা?
আগে টুকটাক গান করতাম আর গিটার বাজাতাম। কলেজের একটি অনুষ্ঠানে বন্ধুরা জোর করে গাইতে বললো। গানটি গাওয়ার পর শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেলাম। তখন থেকেই ভাবলাম গান গাইবো। ১৯৯০ সালে আমরা একটি ব্যান্ড দল গঠন করি। নাম দিলাম ডিফারেন্ট টাচ। এ ডিফারেন্ট টাচের প্রথম অ্যালবামই আলোচনায় চলে আসে। অ্যালবামটির নামও দিয়েছিলাম ডিফারেন্ট টাচ। প্রথম অ্যালবাম ভালো চলার কারণে গানের জগতে প্রবেশ করি।
আপনাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রত্যাশা অনেক দিন পর বের করেছিলেন, কেন?
আসলে প্রথম অ্যালবামে কাজ করার পর ভেবেছিলাম এর থেকে ভালো কিছু করবো। এ কারণে একটু সময় নিয়ে কাজ করেছিলাম। প্রত্যাশা অ্যালবামটি ১৯৯৭ সালে বের হয়েছিল। কিন্তু অ্যালবামটি আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
নতুন অ্যালবামের কাজ কতোদূর এগিয়েছেন?
প্রত্যাশা অ্যালবামটির পর নতুন করে আরেকটি অ্যালবামের কাজে হাত দিই। ২০০০ সালে এ অ্যালবামটির কাজ শুরু করি। অ্যালবামটি করতে গিয়ে পরিচিতরা বললো, ডিফারেন্ট টাচ অ্যালবামের কিছু গান এখানে যোগ করে দিতে। ভাবলাম, আগের গানগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই তিনটি গান এ নতুন অ্যালবামে যোগ করে দিলাম। সাউন্ডটেকের ব্যানারে অ্যালবামটি বের করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু ডিফারেন্ট টাচ অ্যালবামটি যে কম্পানির কাছ থেকে করা হয়েছিল তারা এ গানগুলোর স্বত্ব দিতে রাজি হলো না। এ কারণে অ্যালবামটির কাজ পিছিয়ে যায়। এখন সেই তিনটি গান নতুন করে অ্যালবামটিতে যোগ করেছি। হয়তো আগামী ফেব্রুয়ারিতে অ্যালবামটি বাজারে আসবে।
অ্যালবামটির নাম কি দিয়েছেন এবং গানগুলোর কথা কেমন?
অ্যালবামটির নাম দিয়েছি শিরিশ নগর লেন। অ্যালবামটিতে বেশ কিছু ভালো কথার গান রয়েছে। গানগুলো এ রকম- বাবা বলতো বড় হয়ে নে খোকা, তোকে নিয়ে যাবো এক দিন ওই পাহাড়ের চূড়ায়। দুঃখ বাড়ির ছেলে আমি। মন যমুনায় ভেসে গেছি। হাজারো কবিতার মাঝে ইত্যাদি।
আপনার শৈশব কোথায় কেটেছে?
আমার বাড়ি খুলনায়। ছোটবেলা খুলনায়ই কাটিয়েছি। আমি প্রচণ্ড রকমের ফুটবল পাগল ছিলাম। ফুটবল ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে অনেক খেলেছি। কলেজে ওঠার পর কিছুটা গান ও গিটারের প্রতি দুর্বল হয়ে যাই। এভাবেই শৈশবটা কেটেছে।
আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
বর্তমানে মানুষের রুচির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন পুরনো দিনের গানগুলো তেমন আর শুনছে না শ্রোতারা। তারপরও আমি পুরনো দিনের কিছু গান নতুন করে শ্রোতাদের সামনে তুলে আনতে চাই। আমার নতুন অ্যালবামেও এ রকম কিছু গান আছে। আমার নতুন অ্যালবামটি যদি শ্রোতারা ভালোভাবে গ্রহণ করে তাহলে গানে আবার নিয়মিত হতে চাই এবং এ অ্যালবামটি নিয়ে আমি আশাবাদী।
পরিবারে কে কে আছেন?
আমার মা, ভাই, বোন, স্ত্রী ও দুই ছেলে বারসাদ আজমি বয়স ছয় আর নামী ইফরাইন বয়স তিন বছর। বাবা মারা গেছেন। এদের নিয়েই আমার পরিবার। ছেলেদের নামগুলো ইরানিয়ান। সবাই আমরা ঢাকায় থাকি।
ছেলেদের কি গানের জগতে আনার ইচ্ছা আছে?
আমি যেহেতু এ মাধ্যমে কাজ করছি তাই জানি, এ মাধ্যম কতোটা কঠিন। আমার ইচ্ছা নেই ওদের গানের জগতে আনার। তার পরও যদি ওরা নিজের ইচ্ছায় গানের জগতে আসে তাহলে আমি নিষেধ করবো না। আমার ইচ্ছা, ওরা খেলোয়াড় হবে। আমি ওদের এ ব্যাপারে উৎসাহ দিই অনেক বেশি।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: Bangladeshi Band, Different Touch, Mejbah Rahram, ডিফারেন্ট টাচ, মেজবাহ রহমান
Post Your Comments