প্রথম অ্যালবাম পাঞ্জাবীওয়ালার সুবাদে এখন অনেকেই তাকে পাঞ্জাবীওয়ালা বলেই বেশী চেনেন। ফোক ঘরানার কিছু মন ছুয়ে যাওয়া গান আর হাবিবের মোহিত করা সুরের যাদুতে পাঞ্জাবীওয়ালা অ্যালবামটি ছিলো সুপার হিট। সেই ধারাবাহিকতায় পাঞ্জাবীওয়ালা-গায়িকা শিরিন’এর দ্বিতীয় অ্যালবামটি বাজারে আসছে ১৪ নভেম্বর। লন্ডন প্রবাসী এই ফোক গায়িকাকে নিয়েই আমাদের এ সপ্তাহের মিউজিক বিভাগের মূল ফিচার। লিখেছেন এমএইচ মিশু
গানের জগতে আগ্রহটা শিরিনের শৈশব থেকেই। এর কারণ তার বাবা-মা দুজনই ছিলেন শেফালী ঘোষ ও আমির উদ্দীনের গানের ভক্ত। তাই ছোটবেলা থেকেই শিরিন এদের গান শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন। শুধু গান শোনা নয়, গানগুলোকে কণ্ঠস্থ করতেও তার সময় লাগেনি খুব বেশী। আর তাই লন্ডন প্রবাসী অনেক সঙ্গিত প্রেমীদের কাছে তিনি বাউল কুইন বলে পরিচিত। প্রথম অ্যালবামের কৃতিত্ব অনেকটাই শিরিন তুলে দিয়েছেন হাবিবের কাছে। ২০০৪-এ বাংলাদেশে বেড়াতে এসে বন্ধু হাবিবের সাথে দেখা হয়ে যায় তার। তখন হাবিব ব্যস্ত ছিলেন শিরিনেরই এক বন্ধু হেলালের মায়া অ্যালবাম নিয়ে কাজ নিয়ে। অপরদিকে কৃষ্ণ অ্যালবামটি তখন বাংলাদেশের অডিও বাজারে সাড়া ফেলেছে ব্যাপক ভাবে। তখন হাবিব প্রস্তাব করেন কায়া, হেলালের পরে শিরিনেরও এমন একটা অডিও অ্যালবাম বাজারে আনা যেতে পারে। এই থেকেই শিরিনের অডিও বাজারে আগ্রহের শুরু। বেশ কিছু গান শোনার পরে হাবিব মোট ৯টি গান নির্বাচন করেন পাঞ্জাবীওয়ালা অ্যালবামটির জন্য। গানগুলোর রেকর্ডিং হবার বেশ অনেক পরে এই অ্যালবাম বাজারে আসে। আর সেই সাথে আসে কিছু মিউজিক ভিডিও।
পাঞ্জাবীওয়ালা অ্যালবামটি সুপারহিট হবার সুবাদেই গায়িকা শিরিনের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে যায় বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। এরপর থেকেই শিরিন তার দ্বিতীয় অ্যালবামের স্বপ্ন দেখছিলেন। প্রথম অ্যালবামটির পুরো দায়িত্ব আর কৃতিত্ব বন্ধু হাবিবের কাছে গেলেও এর পরবর্তী অ্যালবামের জন্য হাবিব নিজেই স্মরণ করেন বাংলাদেশের অপর এক জনপ্রিয় মিউজিশিয়ান ফুয়াদের নাম। আর তাই শিরিনের পরবর্তী অ্যালবাম মাতোয়ালির কাজ করেছেন ফুয়াদ। নতুন এই অ্যালবামটি বাজারে আসছে আগামী ১৪ নভেম্বর। মোট ৯টি গান থাকছে এই অ্যালবামে। প্রথম অ্যালবামটি পুরোপুরো ফোক গানে ঠাসা হলেও এই অ্যালবামটিতে থাকছে কিছু ফোক আর কিছু ফোক ফিউশন। অনেকদিন থেকেই ফুয়াদের মিউজিক খুব ভাল লাগছিল শিরিনের। আর তাই ফুয়াদের সাথে কাজ করতে পেরে নিজের অভিভূত হবার অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন শিরিন। ৯টি গানের কথা বিভিন্ন গীতিকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন শিরিন নিজেই। আর সুরকারের তালিকায়ও থাকছেন অনেকে। তবে অ্যালবামের তিনটি গানের সুর দিয়েছেন ফুয়াদ নিজেই। অ্যালবামটিতে ফুয়াদের মিউজিক আর শিরিনের গলা মাত করবে এদেশের সঙ্গিত পিপাসুদের নিঃসন্দেহে। অ্যালবামের গানগুলোর বাইরে শীর্ষ সঙ্গিত মাতোয়ালির মিউজিক ভিডিও চিত্রায়ন সম্পন্ন হয়েছে। কিরণ মেহেদীর করা এই মিউজিক ভিডিওতে আবারো একবার মাতোয়ারা করবে পাঞ্জাবীওয়ালা খ্যাত শিরিন।
শিরিনের পৈত্রিক নিবাস চট্রগ্রামের বোয়ালখালীর পোপাদিয়া গ্রামে। আর তার গায়কিতে খুজে পাওয়া যায় চট্টগ্রামের খাটি আঞ্চলিকতার মিঠে আঁচ। তার গানে খুজে পাওয়া এদেশের মাটির গন্ধ, মাটির টান। বাংলাদেশের নিজস্ব সঙ্গিত চেতনায় উদ্ভুদ্ধ বলেই হয়তো শিরিনের গানের শ্রোতা খুজে পাওয়া যায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বাংলাদেশীদের মাঝে। গানের গলা তৈরিতে শিরিনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই বললেই চলে। শিরিন বলেন, যখন থেকে আমি কথা বলতে শিখেছি ঠিক তখন থেকেই মনে হয় আমি গান করি। ক্যাসেট পেয়ারে গান শুনতে শুনতেই তার গাইয়ে হয়ে উঠা। লন্ডনে জন্ম নিলেও শিরিনের অন্তর জুড়ে আছে বিস্তৃর্ণ বাংলাদেশ, আর এদেশের সংস্কৃতির সঙ্গিত ধারা। তিনি ভালোবাসেন তার জন্মস্থান চট্টগ্রামকে। চট্টগ্রামের ভাষা, কথা বলার ধরন, জীবন যাত্রা, সেখানের সঙ্গিত ধারা, সেখানকার মানুষ এই সবকিছু। সময় পেলেই শিরিন বেড়াতে আসেন এই দেশে।
নতুন মুখ, নতুন গায়েন খুজে বের করতে হাবিব এখন ওস্তাদদের একজন। পাঞ্জাবিওয়ালা এর বড় প্রমাণ, এরপর হাবিবের হাত ধরে ন্যান্সিও হয়ে উঠেছেন বর্তমান সময়ের ব্যস্তদের একজন। কিন্তু নিজের গায়কিটা শ্রোতা পর্যন্ত পৌছাতে এমন একজন প্রতিষ্ঠিত মিউজিশিয়ানের সংস্পর্শতা কতটা জরুরি এই প্রশ্নের উত্তরে শিরিন পরিষ্কার জানিয়ে দেন, হাবিব না হলে হয়তো আজকের শিরিনের জন্ম হতো না। শেষমেষ ধন্যবাদের খাতায় হাবিবের নামটিও উঠে আসছে। সেই সাথে শিরিনের মতো একজন লন্ডন প্রবাসী বাংলা গানের প্রেমীকে সাধুবাদ। আর নতুন অ্যালবামে থাকছে মাতোয়ারা কিছু গানের সাথে এদেশের আর একজন প্রতিষ্ঠিত মিউজিশিয়ানের নাম ফুয়াদ। এমন হাজারো বাংলাদেশীদের কণ্ঠস্বরে একদিন ফিরে আসবে বাংলা গানের জৌলুস, বাংলা গানের ৬০ এর দশক।
Tags: কায়া, ন্যান্সি, ফুয়াদ, শিরিন
Related News:
Leave a Reply