কলকাতার বাঙালি ছেলে, মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্লেব্যাক শিল্পী শান্তনু মুখার্জি শান সম্প্রতি নিজের একক লাইভ শোতে বাংলাদেশের শ্রোতাদের মাতিয়ে গেলেন। নিজের ব্যান্ডদল দ্য গ্রুপের নয় সদস্যের দল নিয়ে ঢাকা সফর করে গেলেন। এটি ছিল অন্তর শোবিজের স্বপন চৌধুরীর এক্সক্লুসিভ আয়োজন। শানকে পেয়ে ঢাকার শ্রোতারা কতোটা আন্দোলিত হয়েছেন তা শুধু লাইভ শোতে যারা উপস্থিত ছিলেন তারাই বলতে পারেন। ওম শান্তি ওম, হাম তুম, ফানা, কাবি আলবিদা না কেহনা-র মতো জনপ্রিয় সব হিন্দি মুভির গায়ক শান রীতিমতো বাংলাদেশ কাঁপিয়ে গেছেন। শেরাটন হোটেলের বকুলে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবেগ রহমান
বাংলাদেশে এটা আপনার কতোতম সফর?
ছয় কি সাত বছর আগে একবার এসেছিলাম মার্সেডিজ বেঞ্জ গাড়ির লঞ্চিং প্রোগ্রামে। ধরতে গেলে এটাই আমার প্রথম বাংলাদেশ সফর। কারণ এবারই আমি আমার শ্রোতাদের সামনে পরিপূর্ণভাবে লাইভ করার সুযোগ পাচ্ছি।
কেমন লাগছে বাংলাদেশ? কলকাতা আর ঢাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ছে কি?
দারুণ লাগছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি দারুণ খুশি। অনেক দিনের ইচ্ছাটা এবার পূরণ হলো। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে লাইভ শোর ব্যাপারে অনেকে যোগাযোগ করছিল। কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলছিল না। এবার ব্যাটে-বলে মিলে গেল। ইচ্ছামতো বাংলাদেশের মাছ আর বিরিয়ানি খাবো। কলকাতা আর ঢাকার তেমন কোনো পার্থক্য চোখে পড়ছে না। ওখানেও বাংলায় কথা বলি, এখানেও বাংলাতে কথা বলছি।
আপনার পূর্বপুরুষরা নাকি বাংলাদেশের অধিবাসী ছিলেন?
আমার গ্র্যান্ড ফাদার বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে চাকরি করতেন। তাছাড়া ভাষাগত দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক তো রয়েছেই। সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি এবং আমরা বাঙালি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমার বাবা প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক মানস মুখার্জি ’৭১ নিয়ে দুটো গানও রেকর্ড করেছিলেন।
মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে পাকিস্তানের গায়ক-গায়িকারা যতোটা প্রাধান্য পান বাংলাদেশের শিল্পীরা ততোটা কেন পান না? লাইভ শোর ক্ষেত্রেও এমন একটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়ে আসছে।
আমার মতে, পার্থক্যটা এমন নয়। অন্তর শোবিজের স্বপন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের শিল্পীদের লাইভ শোর ক্ষেত্রে দারুণ সম্ভাবনাময় কাজ করে আসছেন। ভারত-পাকিস্তানের শিল্পীরা যেমন বাংলাদেশে প্রচুর লাইভ শো করে আসছেন তেমনি বাংলাদেশের শিল্পীরাও ভারত-পাকিস্তানে নিয়মিত শো করছেন। আমার এ সফরের মধ্য দিয়ে আরো একটা নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলা হলো। তিন দেশের কোলাবরেশনে এখন আরো বেশি বেশি লাইভ অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের শিল্পীরা যে প্রাধান্য পান তার বাস্তব উদাহরণ নগর বাউল জেমস। বাংলাদেশের গায়ক জেমস রীতিমতো ভারত জয় করেছেন। আমি রুনা লায়লা জী’কে স্মরণ করছি। তিনি উপমহাদেশের এক অমর শিল্পী। মিতালী মুখার্জিও ভারতে দারুণ আলোচিত। বাংলাদেশের মমতাজ এবং ব্যান্ডদল মাইলস ভারতে কতোটা জনপ্রিয় তা হয়তো আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না।
আপনার মায়ের ভাষা বাংলা। কিন্তু আপনি জনপ্রিয় হয়েছেন হিন্দিতে প্লেব্যাক করে। বাংলা গানকে নিজে কতোটা প্রাধান্য দেন?
আমি অসংখ্য বাংলা গান এখন হিন্দি থ্রু’তে শুনছি। কলকাতার বাংলা গান আমি নিয়মিত গাইছি। আমি বিশেষভাবে বাংলাদেশের ফোক এবং বাউল গানের কথা বলবো। এর চেয়ে সমৃদ্ধ সঙ্গীত আমি আর শুনিনি। হিন্দিতে যদি বাংলাদেশের ফোক এবং বাউল গানকে দু’দেশের কোলাবরেশনে রিমেক করা যায় তাহলে সারা পৃথিবীর শ্রোতারা গ্রহণ করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এখন হিন্দির চেয়ে বাংলা গান বেশি গাই।
আপনাকে এখন মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রির নাম্বার ওয়ান প্লেব্যাক শিল্পী বলা হয়। এ অবস্থান নিয়ে আপনি কতোটা গর্বিত?
এ অবস্থান নিয়ে আমি মোটেও গর্বিত নই। শিল্পী হিসেবে আমি আরো বিনয়ী হতে চাই। যে কেউ নিজের ক্যারিয়ারে ভালো করতে পারেন। নাম্বার ওয়ান হওয়া বড় নয়, এটা কিসমতের ব্যাপার। ভালো গান গেয়েছি, শ্রোতারাও গ্রহণ করেছে। এতেই আমি কৃতজ্ঞ।
সাম্প্রতিককালে উপমহাদেশ তথা সারা পৃথিবীতে সঙ্গীত প্রতিযোগিতার ছড়াছড়ি। আপনি নিজেও অনেক রিয়েলিটি শো’র উপস্থাপনা করেছেন। রিয়েলিটি শোগুলো কি সত্যিকারভাবে শিল্পী তৈরি করতে পারছে?
নাহ, সারা পৃথিবীতে রিয়েলিটি শোগুলো একজন শিল্পীকেও তৈরি করতে পারেনি। শিল্পী তৈরি করা যায় না, শিল্পীরা জন্মগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতার শিল্পীরা সাময়িক জনপ্রিয় হয়। কিছু টাকা, গাড়ি পায়। এরপর হারিয়ে যায়। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, ওদের এতো স্বপ্ন দেখানো উচিত নয়। আমি আর কখনো রিয়েলিটি শো করবো না।
আপনি তো খুব সুদর্শন। একটি মুভিতে অভিনয়ও করেছেন। অফার পেলে কি অভিনয় করবেন?
না, আর কখনো অ্যাক্টিং করবো না। একটি মুভিতে আমার অভিনয় দেখে আমার বউ সাফ সাফ বলে দিয়েছে, এ ধরনের অভিনয় বন্ধ করো। গানটান নিয়ে আছো, সেটা নিয়েই থাকো।
বাংলাদেশে লাইভ শো’র ব্যস্ততার পাশাপাশি বাংলা মুভিতে প্রথমবারের মতো প্লেব্যাকের অনুভূতি কি?
কলকাতার বাংলা মুভিতে প্লেব্যাকের যে অনুভূতি, একই অনুভূতি হচ্ছে ঢাকার বাংলা মুভিতে প্লেব্যাক করে।
শ্রোতাদের জন্য আপনার নতুন কি উপহার আসছে?
খুব সহসা শ্রোতারা আমার হিন্দি অ্যালবাম শুনতে পাবেন।
সূত্র: যায়যায়দিন, জুন ২৩, ২০০৯
Related News:
Leave a Reply