দেশবরেণ্য ১২ জন কবির কবিতা নিয়ে প্রিন্স মাহমুদের নতুন অ্যালবাম
![]()
ব্যান্ড সঙ্গীতের সোনালি সুদিনে ব্যান্ডের শিল্পীরা ব্যান্ডের বাইরে সর্বপ্রথম যার কথা ও সুরে গান করেছেন তার নাম প্রিন্স মাহমুদ। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে মিক্সড অ্যালবামের প্রচলন, প্রতিষ্ঠা ও জনপ্রিয়তার পেছনে প্রিন্স মাহমুদের সর্বাধিক অবদান সর্বজন স্বীকৃত। ১৪ বছরের মিউজিক ক্যারিয়ারে প্রতি বছরই ২/৩টি হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৫ সালে আইয়ুব বাচ্চুর পালাতে চাই, ১৯৯৬ সালে খালিদের আবার দেখা হবে, চন্দনের তুমি জেনে নাও আমি করেছি ক্ষমা, মাকসুদের কেন মন নিয়ে এতো দাও যন্ত্রণা, ১৯৯৭ সালে হাসানের ভালোবাসতেই হবে আমাকে, খালিদের যতোটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে, ১৯৯৮ সালে জেমস এর হতেও পারে এই দেখা শেষ দেখা, হাসানের এতো কষ্ট কেন ভালোবাসায়, খালিদের আকাশনীলা তুমি বল কিভাবে, ১৯৯৯ সালে আইয়ুব বাচ্চুর কতো দিন দেখেনি দু’চোখ, জেমসের মা, হাসানের তুমি নিজে নিজে প্রশ্ন করে দেখো, খালিদের কোনো কারণেই ফেরানো গেল না তাকে, শাফিন আহমেদের আজ জন্মদিন তোমার, আইয়ুব বাচ্চুর বেলা শেষে ফিরে এসে, ২০০০ সালে জেমসের বাবা এবং ফুল নেবে না অশ্রু নেবে, ২০০১ সালে আইয়ুব বাচ্চুর বারো মাস, জেমসের কান্নায় লাভ নেই, ২০০২ সালে আইয়ুব বাচ্চুর খুব বেশি জানতে ইচ্ছে করে, জেমসের বাংলাদেশ, হাসানের ও মায়া, ২০০৩ সালে আইয়ুব বাচ্চুর আজ থেকে আর, এন্ড্রু কিশোরের দুই দিনের মেলা, ২০০৪ সালে জেমসের দেশে ভালোবাসা নাই, আইয়ুব বাচ্চুর শনিবার যায় রবিবার যায়, ২০০৫ সালে আইয়ুব বাচ্চুর মরিবো মরিবো, জেমসের গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া, ২০০৬ সালে রুমির মাটি হবো মাটি, খালিদের যদি হিমালয় হয়ে, পার্থ বড়ুয়ার ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ, সর্বশেষ ২০০৭-এ মাহাদীর তুমি বরুনা হলে, রুমির বোকা। সব মিলিয়ে প্রিন্স মাহমুদের শুধু হিট গানের সংখ্যাই অর্ধশতাধিক।
বাংলা গানের এ গীতিকার ও সুরকার এবার একেবারেই ব্যতিক্রমী একটা কাজে হাত দিয়েছেন। দেশবরেণ্য ১২ জন কবির কবিতা নিয়ে একটি মিক্সড অ্যালবাম করছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে আবুল হোসেনের দেব সব দেব, নির্মলেন্দু গুণের চিরকালের বাঁশি, সৈয়দ শামসুল হকের আমি জন্মেছি বাংলায়, আল মাহমুদের নোলক, আবুল হাসানের যুগলসন্ধি, শামসুর রাহমানের চলে যাওয়াই রীতি, শহীদ কাদরীর আজ সারাদিন, দাউদ হায়দারের বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কোন এক মাকে, মহাদেব সাহার আকাশের কথা, আসাদ চৌধুরীর তখন সত্যি মানুষ ছিলাম এবং আনিসুল হকের দুটি ছায়া।
হঠাৎ এমন একটি মহতী কাজের কারণ জানতে চাইলে প্রিন্স মাহমুদ বলেন, হঠাৎ নয়। প্রায় ৫ বছর আগে আমি আর প্রয়াত সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মবিন মিলে এ রকম একটি অ্যালবামের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সে সময়েই আমি ৬টি কবিতার সুর করে ট্র্যাক বানিয়ে রেখেছিলাম। মবিন মারা যাওয়ার পর আমি কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়ি। শেষ পর্যন্ত কাজটি আর ধরা হয়নি। এখন আবার শুরু করেছি। এরই মাঝে বাকি ৬টি কবিতার সুর করেছি এবং ট্র্যাক রেডি করেছি। এমন উদ্যোগ নেয়ার কারণ হচ্ছে আমি একজন কবিতাপ্রেমী। সব কবির কবিতাই পড়ি আমি। এর মাঝে কিছু কিছু কবিতা আছে, যেগুলো আমার অসম্ভব প্রিয়। সেই প্রিয় কবিতাগুলোকে সুর করে গানে রূপ দিলে কবিতাগুলোর একটা ভিন্নমাত্রা তৈরি হবে বলে আমার বিশ্বাস। বাংলা কবিতার পরিধি এতো সুন্দর, এতো ব্যাপক যে এটাকে সুরে ফেললে কবিতার আরেকটা নিজস্ব পরিধি তৈরি হবে। যে পরিধি কাব্য ভাষার এবং সুরের। যে কবিতাগুলো গানের জন্য নির্বাচন করেছি আমি, সেই কবিতাগুলোর প্রতিটি শব্দেরই নিজস্ব ছন্দ আছে। এ ছন্দটাকে বুঝেই সুর করেছি আমি। আশা করছি শ্রোতাদের ভালো লাগবে। ইদানীং গানে কাব্য ভাষার একটু অভাব আছে। নিষপ্রাণ কিছু শব্দ আর আবেগসর্বস্ব সুর দিয়ে কিছু সময়ের জন্য শ্রোতার মনে ঠাঁই নিতে চাই না আমি। গানকে গানের মতোই করতে চাই আমি, যেখানে কাব্য ভাষা এবং সার্বজনীন সুর থাকবে। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি, একটা গানকে এমনভাবে তৈরি করতে যা শুনেই শ্রোতার মনে একটি চমৎকার চিত্রকল্প তৈরি হবে এবং গানের কথা আর সুরের সঙ্গে শ্রোতার মনের একটা যোগসূত্র থাকবে।
উল্লেখ্য, গানগুলোতে কণ্ঠ দেবেন কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল এবং বেশকিছু তরুণ শিল্পী। অ্যালবামের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে যে কোনো একটা বিশেষ দিনে গানচিলের ব্যানার নিয়ে অ্যালবামটি বাজারে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রিন্স মাহমুদ।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: আইয়ুব বাচ্চু, আবিদ, আসাদ চৌধুরী, এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ, খালিদ, জেমস, নির্মলেন্দু গুণ, পার্থ বড়ুয়া, প্রিন্স মাহমুদ, বাপ্পা মজুমদার, শাফিন আহমেদ, শামসুর রাহমান, হাসান

Post Your Comments