লেমিজের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ওয়েস্টার্ন ঘরানার এই গায়িকা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী সময়টা তার। প্রথম ডেব্যু অ্যালবাম ভলিয়াম-ওয়ান দারুণ সাড়া ফেলেছে। প্লেব্যাকে গাইছেন নিয়মিত। সবচেয়ে বড় খবর হলো স্টেজে লেমিজ অতুলনীয়। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবেগ রহমান।
আপনার ডেব্যু অ্যালবাম ভলিয়াম-ওয়ানে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এটি আসলে গত রোজার ঈদের অ্যালবাম। এবার ১ বৈশাখে এই অ্যালবামের ভিডিও সিডি বাজারে এসেছে। সঙ্গীতার ব্যানারে আমার ডেব্যু অ্যালবামে আশানুরূপ সাড়া পেয়েছি। তবে একটি অ্যালবাম বাজারে সুপারহিট হতে বেশ সময় লাগে। আমি আশাবাদী, যতো দিন যাবে ততোই এ অ্যালবামের কাটতি বাড়বে। আমি প্রতিদিনই নতুন নতুন শ্রোতার অভিনন্দন পাচ্ছি।
ডেব্যু অ্যালবাম সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?
এই অ্যালবামের সুর-সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এসআই টুটুল, পঙ্কজ, সোলসের কি-বোর্ডিস্ট মাসুম ও ড. ইকবাল।এতে দু-একটি ফানি গান আছে। আমার কাছে দারুণ ভালো লেগেছে বলেই গানগুলো গেয়েছি। ডেব্যু অ্যালবামে শ্রোতাদের যা বোঝাতে চেয়েছি তাতে আমি পুরোপুরি সফল।
কোন ধরনের গান গাইতে আপনার বেশি ভালো লাগে?
আমি সব ধরনের গান গাইতে পারি। এক প্যাটানের গান দিয়ে কোনো শিল্পীকে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। অবশ্য ওয়েস্টার্ন বেশি ফলো করছি। আমি প্রচুর স্টেজ শো করি। স্টেজে আমাকে সব ধরনের গান গাইতে হয়। বাংলাদেশি হিসেবে স্টেজে ফোক গানকে বেশি প্রাধান্য দিই।
গানের পথে কেমন করে এলেন?
সত্যি বলতে কি, ছোটবেলায় কথা বলা শুরু গান দিয়ে। সেই ছোটবেলায় কোনো গান শুনেই গেয়ে ফেলতে পারতাম এবং সারাক্ষণ গাইতাম। গ্রামের বাড়িতে খেলতে খেলতে গান গাইতাম। সারাক্ষণ গান আমার মুখে লেগেই থাকতো। একবার আমি গান গাইছিলাম। সবাই ভেবেছিল, রেডিও বাজছে। পরে দেখি আমিই গাইছি। রাতে খাবারের পর সবাই গাইতে বললো। আমি গাইলাম। ছোটবেলায় গ্রামে সিনেমার মাইক বাজতো। সেই মাইক থামিয়ে আমি গান গাইতাম। এরপর এলাকা ভিত্তিক স্কুলের প্রোগ্রামে গান গাওয়া শুরু হয়। ৬-৭ বছর বয়স থেকে ময়মনসিংহের বিখ্যাত দুই ওস্তাদ আমজাদ হোসেন ও মজিব চৌধুরীর সঙ্গে গান শিখি। ১১ বছর বয়সে ঢাকা চলে আসি। ঢাকায় এসে সব ধরনের প্রোগ্রামে গাওয়া শুরু করি। ঢাকায় ওস্তাদ সঞ্জীব দে’র কাছে এখন নিয়মিত তালিম নিচ্ছি। ক্লাসিকাল শিখছি।
কখন থেকে প্রফেশনালি গান গাওয়া শুরু করলেন?
আমি ১২ বছর বয়স থেকে প্রফেশনালি গাইছি।
স্টেজে কেমন উপভোগ করেন?
এক কথায় দারুণ। আমি সবসময় স্টেজকে বেশি প্রাধান্য দিই। যেদিন শো থাকে না সেদিন মনে হয় বেঁচে নেই।
আপনি কেমন গেটআপ পছন্দ করেন?
আমি ওয়েস্টার্ন গেটআপ পছন্দ করি আবার শাড়িও পছন্দ করি।
এক জীবনে আসল চাওয়াটা কি?
সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পী হতে চাই। আমৃত্যু গান গাইতে চাই। সারা পৃথিবীতে গান গাইতে গাইতে ঘুরতে চাই।
সঙ্গীতে আপনার আইকন কারা?
আমি ছোটবেলা থেকেই শ্রদ্ধেয় রুনা লায়লার ফ্যান। এন্ড্রু কিশোর, কনকচাঁপা ও আবিদা সুলতানার গান সবসময় শুনি। অন্যদিকে মাইকেল জ্যাকসন, ম্যাডোনা, শাকিরা ও সেলিন ডিওন আমার আইকন।
এখন আপনি কী নিয়ে ব্যস্ত?
দ্বিতীয় অ্যালবামের পরিকল্পনা চলছে। সম্ভবত দ্বিতীয় অ্যালবামটি করবে ফ্রেন্ড অব ফুয়াদ রাজিব আহমেদ। এছাড়া নিয়মিত প্লেব্যাকে গাইছি। বাংলা ছবিতে জোশ কয়টা গান গেয়েছি। এগুলো মুক্তি পেলে আশা করছি শ্রোতারা বেশ শুনবে।
সূত্র: যায়যায়দিন, জুলাই ২০, ২০০৯
Tags: আবিদ, আবিদা সুলতানা, এন্ড্রু কিশোর, এসআই টুটুল, কনকচাঁপা, কিশোর, ফুয়াদ, রুনা লায়লা, শান, সোলস
Related News:
Leave a Reply