ছাত্রজীবনে গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম : পার্থ বড়ুয়া

Posted by Bangla Music on Sep 9th, 2008 and filed under Features, সাক্ষাত্কার. 391 views. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

ছাত্রজীবনে গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলাম : পার্থ বড়ুয়া

Partha Barua - Bangla Music

শহরতলির আলো, নিয়ত নিয়তি নিতান্তই, সিনেমা, শেষ দুই দিন এবং জলকণা- এ পাঁচটি নাটকে অভিনয় করেছেন পার্থ বড়-য়া। পেশাদারি অভিনয় অ্যাঙ্গেল থেকে সংখ্যাটি মোটেই বিবেচ্য নয়। কিন’ নিখুঁত অভিনয় দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছেন অনেক পেশাদার অভিনেতাকেও। কণ্ঠশিল্পী থেকে অভিনয় শিল্পী হয়ে ওঠা পার্থ বড়-য়ার সঙ্গে গান এবং অভিনয়ের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কথা বলে লিখেছেন টি আই অন্তর, ছবি শরীফ সারওয়ার।

গানের মতো অভিনয়েও আপনি সফল। পেশাদারি অভিনেতা না হয়েও এমন নিখুঁত অভিনয় করছেন কীভাবে?
সত্যিকার অর্থে সফল কি না বলতে পারবো না। যদি এটাকে সফলতা বলা হয়, তবে এর কৃতিত্ব আমার নয়, এ কৃতিত্ব নাটকের পরিচালকদের। কেননা, আমি আসলে জানিই না আমি কি করেছি। পরিচালকরা আমাকে যা যা করতে বলেছে, আমি শুধু তাই করেছি। মেজবাউর রহমান সুমন, রাজীব আহমেদ, ইফতেখার আহমেদ ফাহমী, ফারিহা হোসেন ও আরিফ খানের মতো পরিচালকরা ছিল বলেই আমার অভিনয় এতো ভালো হয়েছে।

ছাত্রজীবনে আপনি গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সে অভিজ্ঞতা কি এখানে কোনো ভূমিকা রেখেছে?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন প্রত্যক্ষভাবে গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলাম। সোলসের পুরনো মেম্বার রনি, নেওয়াজ ছাড়াও শিশির দত্ত, মুনির হেলাল- এরা সবাই ছিল গ্রুপ থিয়েটারের একনিষ্ঠ কর্মী। আমি সবসময়ই তাদের পাশাপাশি ছিলাম। কালপুরুষ নামে একটা নাট্যদল ছিল তখন। কালপুরুষের প্রথম প্রোডাকশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ওপর। আমি সেটাতে পারফর্ম করেছি। এছাড়া অরিন্দমের বেশকিছু নাটকের ব্যাকগ্রাউন্ড করেছি আমি। যেহেতু আমি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম, সেহেতু আমাকে শেক্সপিয়ার পড়তে হয়েছে। তাছাড়া আমার সাবসিডিয়ারি ছিল ফাইন আর্টস, আমি ফাইন আর্টসের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলাম, জিয়া হায়দার আমার শিক্ষক ছিলেন। সে সময়ের অভিজ্ঞতা আমার কাজে লেগেছে ঠিকই, কিন’ টিভি মিডিয়া ভিন্ন, এখানে শর্ট টু শর্ট কাজ করতে হয়। এখানকার অভিনয়, প্রেক্ষাপট সবকিছুই আলাদা।

পাঁচ নাটকে পাঁচটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আপনি, দর্শক হিসেবে কোন চরিত্রটি আপনাকে মুগ্ধ করেছে?
সব চরিত্র থেকে সিনেমার চরিত্রটি অন্য রকম ছিল। সবাইকে স্ক্রিপ্ট দিলেও আমাকে স্ক্রিপ্ট দেয়নি, এমনকি আমার চরিত্র সম্পর্কে ব্রিফ দেয়া হয়নি। অপিসহ সবার সঙ্গে মিটিং হয়েছে, আমাকে সে মিটিংয়েও রাখা হয়নি। আমি বুঝতেই পারিনি কি হ”েছ। ফাহমি প্রতিটি সেগমেন্ট ধরে ধরে আমাকে দিয়ে অভিনয় করিয়ে নিয়েছে। আমি তখনো টের পাইনি, আমি কি করছি, কীভাবে করছি। এডিট করার পরে যখন দেখলাম আমি তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এমন অভিনয় আমি করেছি।

আপনার বিপরীতে যারা নায়িকা ছিলেন, তাদের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, প্রত্যেকের সম্পর্কে একটু একটু বলুন।
শহরতলির আলো নাটকে আমার বিপরীতে ছিল জয়া। জয়ার সহযোগিতা ছিল খুবই আন্তরিক। প্রতিটি সিকোয়েন্সেই জয়া আমাকে অফ ক্যামেরায় কিউ দিতো। একটা সিকোয়েন্সে ছোট একটি ডায়ালগ ওকে করতে আমার ২৫ বার লেগেছে। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও যখন হ”িছল না, তখন মেকআপ রুমে জয়া আমাকে ডায়ালগটির বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল বিশ্লেষণ করে এতো সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেয় যে এরপর একবারেই সেটা ওকে হয়ে যায়। নিয়ত নিয়তি নিতান্তই নাটকে তিন্নির সঙ্গে আমার সিকোয়েন্স ছিল মাত্র ২টি। তিন্নি অত্যন্ত সাবলীল পারফরমার। আমার শুটিংয়ের সময় ওকে আসতে না করেছিলাম। ওর শুটিংয়ের সময় কিন’ আমি ছিলাম। অপির সঙ্গে প্রথম নাটক সিনেমায়ও আমার সিকোয়েন্স ছিল ২টি। অপির স্টুডেন্ট লাইফ থেকেই ওকে আমি চিনি। ও এমনিতেই বেশ হেল্পফুল। পরের নাটক শেষ দুই দিনে অপির সঙ্গে প্রচুর সিকোয়েন্স ছিল। তার মধ্যে কিছু সিকোয়েন্স ছিল ভীষণ রোমান্টিক, যেহেতু আমাদের চরিত্র ছিল স্বামী-স্ত্রীর। অপি দুর্দান্ত পারফর্মার, আমি ওর সঙ্গে পেরে উঠছিলাম না। আমার এক্সপ্রেশন ঠিক করার জন্য অফ ক্যামেরায় ও আমাকে বলতো, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে আমি আপনার বউ। নিজের বউয়ের সঙ্গে মানুষ যে রকম স্বাভাবিক আর সাবলীল, আপনাকে তাই হতে হবে।’ জলকণা নামে তারিনের সঙ্গে যে সিরিয়ালটা করছি, এতে তারিন আমাকে সব দিক থেকেই সহযোগিতা করছে। কী কস্টিউম পরবো, এক্সপ্রেশন কেমন হবে, এমনকি ডায়ালগ পর্যন্ত বলে দিয়েছে। কাজের প্রতি ভীষণ সিরিয়াস তারিন।

চলমান ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মূল বিচারকের একজন হিসেবে ক্লোজআপ ওয়ান নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা না হলে কখনোই বুঝতে পারতাম না যে, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এতো ভালো গান গাইতে পারে। অনেক সিনিয়র শিল্পী প্রায়ই বলেন, তাদের সময়ে গানের চর্চা হতো, এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে গানের চর্চা নেই। এ প্রতিযোগিতার বিচারকার্য পরিচালনা করতে গিয়ে আমার মনে হলো এ কথাগুলো সত্যি নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঠিকই গানের চর্চা হয়। এখন যারা গানবাজনায় আসছে, তাদের অধিকাংশই শিখে আসছে। ওদের স্ট্যান্ডার্ড এনাফ, যে কোনো লেভেলেই ওরা ভালো গাইতে পারবে।

সূত্রঃ যায়যায়দিন।

Tags: , ,

Related News:

Leave a Reply

Login with Facebook:

Bangla Music : Incoming search terms

Advertisement