চে কাফেতে ১০ মিনিট
বাচতে হলে জানতে হবে, রুচি ডাল ভাজা খেতে ভারি মজা কিংবা হাতে হাতে একমি-র মতো জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলগুলো যার কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে তিনি স্টার সার্চ বিজয়ী গায়ক আরিফ। ২০০৩ সালে প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে প্রথম অ্যালবাম ও পুতুল আমার পুতুল সাড়া জাগানোর পর দ্বিতীয় একক বাজারে আসে। এরপর আসিফের সঙ্গে একটি মিক্সড অ্যালবামে এবং আসিফের সাফাই ভালো আছো তো শীর্ষক ডুয়েট অ্যালবামে কণ্ঠ দেন আরিফ। সম্প্রতি যায়যায়দিন চে কাফেতে এসেছিলেন সঙ্গীত শিল্পী আরিফ। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণক ইকরাম
নতুন কি কি কাজ করছেন?
আমার সলো অ্যালবামের কাজ চলছে। দুটি গান করলাম হৃদয় খানের সুর ও সঙ্গীতে। গুঞ্জন চৌধুরীর কথায় গান দুটি দারুণ হয়েছে বলেই আমার ধারণা। মজার ব্যাপার হলো, হৃদয় খানের বয়স মাত্র ১৪ বছর। এছাড়া বাপ্পা মজুমদার ও পঙ্কজের সুর সঙ্গীতে কয়েকটি গান করেছি। গানের কথা লিখেছেন শাহান, দীপান, রাসেল, ও’নীল এবং রবিউল ইসলাম জীবন। আরো কয়েকটি ভালো গান পেলে দ্রুত অ্যালবামের কাজ শেষ করতে পারবো। এছাড়া কাজ শেষ করেছি আসিফ ও মাহমুদ জুয়েলের সঙ্গে একটি মিক্সড অ্যালবামের।
এ অ্যালবামের নেপথ্যে কে থাকছে? আর গানগুলো কি ধরনের?
অ্যালবামটি মাহমুদ জুয়েলের কথা ও সুরে করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, প্রথমে অ্যালবামটির নাম রাখা হয়েছিল ভুলে যাও। পরে নাম বদলানো হয়। কেননা ভুলে যাও অ্যালবামের গান শুনে দর্শকরা যদি সত্যি আমাদের ভুলে যায় তখন কি হবে?
অ্যালবামটি কবে বাজারে আসছে?
অ্যালবামটি গত পহেলা বৈশাখে বাজারে আসার কথা থাকলেও নানা কারণে বাজারে ছাড়া হয়নি। তবে সাউন্ডটেকের ব্যানারে অ্যালবামটি খুব দ্রুত প্রকাশ পাবে বলে আশা করছি।
আপনাদের তিনজনের একটি অ্যালবাম আগেও প্রকাশ পেয়েছিল?
হ্যা আমি, আসিফ ও মাহমুদ জুয়েলের প্রথম মিক্সড অ্যালবামটির নাম ছিল সুখী হতে পারনি। মাহমুদ জুয়েলের কথা ও সুরে সে অ্যালবামটির সাফল্যই মূলত নতুন অ্যালবামটির মূল অনুপ্রেরণা। সে হিসেবে এবারের অ্যালবামটিকে সুখী হতে পারনির সিকুয়েল বললেও ভুল হবে না।
আসিফের সঙ্গে আপনার ডুয়েট অ্যালবামটির রেসপন্স কেমন ছিল?
আশাতীত। আহমেদ রিজভীর কথা ও রাজেশের সুরে ভাল আছো তো শীর্ষক এ অ্যালবামটি দারুণ সফল হয়েছিল।
আপনি তো প্রচুর বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল করেছেন।
হ্যা, প্রায় ২০০-২৫০টি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলে কণ্ঠ দিয়েছি। এর মধ্যে বাচতে হলে জানতে হবে, তিব্বত বিউটি কেয়ার সোপে বাজিমাত, হাতে হাতে একমি, রুচি ডাল ভাজা, চেজার মানে ভালোবাসা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
জিঙ্গল করতে কেমন লাগে?
ভালোই লাগে। এতো অল্প সময়ের গানে কণ্ঠ দেয়াটাকে আমার কাছে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। তাই গেয়ে আরাম পাই।
অনেকের মতেই দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি স্টেজ শো করেন আপনি?
আসলে এ রকম অনেকেই আছি আমরা। সবচেয়ে বেশি কি না জানি না তবে আমি যে প্রচুর স্টেজ শো করি এটা ঠিক।
এতো বেশি স্টেজ শো করার কারণ কি?
অনেস্টলি বললে সবার আগে জীবিকার ব্যাপারটাই বলতে হবে। এখন আমরা যারা গাইছি তাদের মধ্যে সবার ক্ষেত্রেই অডিওর চেয়ে স্টেজটাই আয়ের বড় উৎস বলে স্বীকৃত। তাছাড়া স্টেজে ওঠলেই দর্শকদের ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। অডিওতে আমার গান শুনে একজন মুগ্ধ হলো কিন্তু তার সেই মুগ্ধতা দেখার কোনো সুযোগ আমি পাবো না। কিন্তু স্টেজ শো তো সেই মুগ্ধতা আমার গাওয়ার উৎসাহকে প্রচুর বাড়িয়ে দেয়। এই যেমন ক’দিন আগে ইনডিয়ার হুগলিতে একটা কনসার্টে গিয়েছিলাম। ইনডিয়ান দর্শকদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাবো কখনো ভাবিনি। এখন আমি আবার সেখানে যাওয়ার আশায় আছি। তাই স্টেজ শো আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি।
সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।


Post Your Comments