গানের মাধ্যমে শ্রোতারা যেন কমপ্লিট স্টোরি পায় : পলাশ
নব্বই দশকে তার গানের শুরু। সঙ্গীত পরিবারে জন্ম বলে তার জীবনে অন্য সাধারণ গুণের মতো গান আপনা আপনি এসেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও পরিবারের অন্য সঙ্গীতজ্ঞদের কাছে তালিম নেয়ার সুযোগ ছিল তার। আধুনিক গানের শিল্পীদের নাম বললে যার নাম অনায়াসে চলে আসে তিনি হলেন সবার পরিচিত শিল্পী পলাশ। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন যায়যায়দিন চে কাফেতে, তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন ইরানী বিশ্বাস
নববর্ষে কি উপহার দিয়েছেন?
শ্রোতাদের নতুন কিছু দিতে পারিনি। তবে আমার গত অ্যালবাম রংমহলের ভিসিডি উপহার দিয়েছি।
কি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন?
ঘুম। আমার পরবর্তী অ্যালবাম ঘুম-এর কাজ চলছে। প্রায় সব ঠিকঠাক। দু-তিনটি গানের ভয়েস দিতে বাকি আছে। এসএসসি পরীক্ষা চলছে। এ সময় রিলিজ দেয়া ঠিক হবে না। এটি আমার ২৪তম একক এবং মোট অ্যালবামের ১৮৬তম। এ অ্যালবামের সঙ্গীত পরিচালনা করছেন সোহেল আজিজ, আজমীর বাবু, হৃদয় ও কিসলু আহমেদ। এছাড়া দুটি দ্বৈত অ্যালবাম নিয়েও কাজ করছি। একটি ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে সাউন্ডটেকের ব্যানারে, অন্যটি মমতাজের সঙ্গে সঙ্গীতার ব্যানারে।
আপনার অ্যালবামের জন্য আপনি কি কি প্রাধান্য দেন?
প্রথমে গানের লিরিক। তারপর সুর। আর একটা দিকে আমি বিশেষ নজর দিই তা হলো সঙ্গীত পরিচালক। একাধিক পরিচালকের পরিচালনায় আমার গান তৈরি হয়। আমি চেষ্টা করি আমার প্রত্যেকটা গানের স্বাদ যেন আলাদা হয় এবং একই অ্যালবামের গানগুলো হবে সব শ্রেণীর মানুষের।
আপনার শিল্পী জীবনের শুরু হলো কিভাবে?
প্রথমে ব্যান্ড গান দিয়ে আমার শুরু হয়। অরবিট থেকে ১৯৮৯ সালে প্রথম অ্যালবাম বের হয়। কিন্তু ব্যান্ড দলের অন্য সদস্যরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় আমার গান গাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে সাউন্ডটেক থেকে কিশোর কুমারের রিমিক্স গান দিয়ে আবার যাত্রা শুরু হয়। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণে পেছনে তাকাইনি। ফাকে ফাকে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করি। টানা সাত বছর রিমিক্স গান করি।
কখন মনে হলো রিমিক্স ছাড়তে হবে?
কোথাও গেলে দেখতাম শিল্পী ভাগ করা হচ্ছে। আমি পড়তাম রিমিক্স গানের শিল্পী হিসেবে। এমনকি আমার মনে হতো আমার দিকে সবাই যেন আড়চোখে তাকায়। চিন্তা করলাম আমার পরিবার শিল্পী পরিবার। আমার শিল্পী সত্তাকে হত্যা করছি। টাকা পয়সা দিয়ে কি হবে? তখনই আমার সিদ্ধান্ত বদল করি।
আপনার প্রথম মৌলিক অ্যালবাম কিভাবে শ্রোতারা গ্রহণ করেছিল?
আমার প্রথম অ্যালবাম তিন মাস পর্যন্ত পড়েছিল। কয়েকবার ফেরত এসেছিল। অবশ্য এর কারণ ছিল অ্যালবামের কভার নিয়ে। আমার নাম ছিল, কিন্তু ছবিটা স্পষ্ট ছিল না। যা হোক পরবর্তী সময়ে শ্রোতামহলে গ্রহণযোগ্য হলো।
বর্তমান সময়ে পাইরেসির ব্যাপকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
পাইরেসি অবশ্যই একটি ঘৃণিত কাজ। শুধু শিল্পীরা প্রতিবাদ করলে হবে না। জাতীয় পর্যায়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তা না হলে শিল্পী সত্তা বিলীন হয়ে যাবে।
বর্তমান শিল্পীরা একটা অ্যালবাম করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করছে। এর পেছনে কি কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন?
এখন প্রচার মাধ্যম এতো বেশি যে, রাতারাতি শিল্পীকে দেখা যায়। তার সম্পর্কে জানা যায়। ফলে শিল্পী খুব কাছের মানুষ হয়ে যায়। আমাদের সময়ে সেটা সম্ভব ছিল না। গ্রামের অনেক মানুষ ছিল যারা আমার গানের ভক্ত ছিল, কিন্তু চিনতো না। বর্তমান সময়ে প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকতার জন্য এমন হচ্ছে হয়তো।
এ সময়ের জনপ্রিয় শিল্পীদের সম্পর্কে কিছু বলবেন?
ভালো গান হচ্ছে, কম্পোজ হচ্ছে। বিশেষ করে হাবিবের কম্পোজিশন খুব ভালো লাগে। বালামের গান অবশ্যই ভালো। এছাড়া ফুয়াদ, ইমন এরা অবশ্যই ভালো গান করে।
শিল্পীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত হয়। আপনার কি মনে হয় আপনাদের মধ্যে সংগঠন বা ফান্ড গঠন করা উচিত?
বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি চিন্তা করি। সিনিয়র শিল্পীদের এগিয়ে আসা উচিত। তারা যদি উদ্যোগ নেন আমরা অবশ্যই এগিয়ে আসবো।
গান নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু ভাবছেন?
আগে অ্যানালগ সিস্টেমে গান করতাম, এখন ডিজিটাল সিস্টেমে করছি। তাই ভালো কিছু করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। আমার গানের মাধ্যমে শুধু কথা বা সুর-তাল দিতে চাই না। শ্রোতা যেন গানের মধ্যে একটা কমপ্লিট স্টোরি পায় সে চেষ্টা করি। যতো দিন বেচে থাকি গান গেয়ে যেতে চাই। ভালো বাংলা গান উপহার দিতে চাই।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: কিশোর কুমার, ডলি সায়ন্তনী, পলাশ, ফুয়াদ, বালাম, মমতাজ
Post Your Comments