শাম্মী আক্তার কেয়া বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ক্লাস ওয়ান থেকেই গান শিখছেন। ১০ বছর বাফায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়াই তার জীবনের লক্ষ্য। এক অনুষ্ঠানে গায়ক আসিফ আকবর কেয়ার গান শুনে বিস্মিত হয়ে যান। এরপর গুণী সুরকার আলাউদ্দিন আলী ও পল্লব স্যানাল কেয়ার প্রথম এককের সুর সঙ্গীত রচনা করেন। আগামী ঈদে বসুধা-আর্বের ব্যানারে বাজারে আসছে কেয়ার প্রথম একক কেউ নিলোনা দায়। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবেগ রহমান।
বসুধা-আর্ব এন্টারটেইনমেন্ট থেকে আপনার প্রথম একক কেউ নিলোনা দায় বাজারে আসছে? প্রথম একক নিয়ে আপনি কতোটা আশাবাদী?
আমি দারুণ আশাবাদী। আমার অ্যালবামের সুরকার শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন আলী ও পল্লব স্যানাল। তাদের মতো গুণী দুজন সঙ্গীত পরিচালকের সাহচর্য আমি পেয়েছি। এই অনন্য সুযোগ আমি কাজে লাগাতে চাই। যতোটুকু গান আমি শিখেছি তার সবটুকু উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। তারা আমার গানের ধরন চলন বুঝেই সর্বোচ্চটা বের করেছেন। তাই বিশ্বাস আছে, শুরুতেই শ্রোতারা আমাকে গ্রহণ করে নেবেন।
প্রথম এককে গান গেয়ে নিজে কতোটা সন্তুষ্ট হতে পেরেছেন? এটি কেমন ধরনের অ্যালবাম হয়েছে?
আসলে গান গেয়ে তৃপ্ত হওয়াটা খুব কঠিন। আমার আরো ভালো করা উচিত ছিল। ক্যারিয়ারের শুরুতেই শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন আলীর সুরে গাইতে পারাটা অনেক বড় সৌভাগ্য। অন্যদিকে পল্লব দাদার সুরও পেয়েছি একই অ্যালবামে। তাদের নিয়ে কমেন্টস করার মতো যোগ্যতা এখনো আমি অর্জন করতে পারিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমার কণ্ঠে যে ধরনের গান মানানসই সে ধরনের গানই তারা তৈরি করেছেন। এটি পুরোপুরি মৌলিক অ্যালবাম। বেশিরভাগ অ্যাকুস্টিক কাজই হয়েছে। অবশ্যই মেলোডি অ্যালবাম।
প্রথম অ্যালবামই বসুধা-আর্বের মতো কোম্পানি থেকে বাজারে আসছে। নিজের অনুভূতি কি?
এ জন্য শ্রদ্ধেয় আসিফ ভাইয়ের কাছে আমি সারা জীবনের জন্য ঋণী হয়ে গেলাম। এ ঋণ কোনোদিন পরিশোধ হওয়ার নয়। তিনি শুধু বড় গায়কই নন, অনেক বড় মনের মানুষ। প্রথম দিন গান শুনেই এতো বড় সুযোগ তিনি আমায় দিলেন। আসিফ ভাইয়ের অনুপ্রেরণা না পেলে এতো তাড়াতাড়ি অ্যালবাম করাই হতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমার অ্যালবাম নিয়ে আসিফ ভাই বেশি উৎসাহী। আমি যেন আমার পারফরম্যান্স দিয়ে তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি সে জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।
আমাদের দেশে সুযোগ পেয়েই যে কেউ গান গাইতে চলে আসে। অনেক ক্ষেত্রে টাকা লগ্নি করে নিজেদের ক্যাসেট নিজেরাই বাজারে ছাড়ছে এবং মিডিয়ায় প্রচার করছে। এক্ষেত্রে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করুন?
বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, এক্ষেত্রে আমার অবস্থান খুব স্বচ্ছ। আমি ক্লাস ওয়ান থেকেই গান শিখছি। বাফায় ১০ বছর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিখেছি এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেছি। ক্লাস ওয়ান থেকে আজ পর্যন্ত নিয়মিত রেওয়াজ করছি। আমার প্রথম ওস্তাদ কৃষ্ণাদি। বর্তমান ওস্তাদ এনায়েত হোসেনের কাছে নিয়মিত তালিম নিচ্ছি। মনে হয়, কিছুটা গাইতে পারি বলেই শ্রদ্ধেয় আলাউদ্দিন আলী ও পল্লব স্যানালের মতো সুরকার আমার অ্যালবাম করতে রাজি হয়েছেন। আসিফ ভাই অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
নিজের ওপর নিজের আত্মবিশ্বাস কতোটা প্রবল?
আমি কতো বড় গায়িকা হতে পারবো তা ভবিষ্যৎ জানে। কারণ গানটা পুরোপুরি গুরুমুখী বিদ্যা। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী। ছোটবেলা থেকেই আমি যা পারি না তা কোনোদিন করার চেষ্টাও করিনি। ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশোনার পাশাপাশি শুধুই গানটা চর্চা করেছি। আমি আত্মবিশ্বাসী বলেই এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি। এরপর টার্গেট ছিল বুয়েটে আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়বো। সত্যি কথা হলো সবার সতর্কতা অমান্য করে বুয়েট ছাড়া আমি অন্য কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দিইনি। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি বুয়েটে টিকেছি এবং আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি। গানের বেলায়ও ঠিক তেমন। আমার বিশ্বাস আছে, শ্রোতারা আমায় গ্রহণ করবেন।
কি ধরনের গান গাইতে বেশি ভালো লাগে?
প্রথমত ভালো কথা ও সুরের গান গাইতে ভালো লাগে। যেমন কেউ নিলো না দায় গানটি লিখেছেন শ্রদ্ধেয় গাতিকার শহীদুল্লা ফরায়েজী। এ গানটিসহ আমার অ্যালবামের প্রতিটি গানই বরেণ্য গীতিকাররা লিখেছেন এবং বরেণ্য সুরকাররা সুর-সঙ্গীত করেছেন। এছাড়াও ওস্তাদজীরা আমায় সব ধরনের গানই গাইতে শিখিয়েছেন।
একটা সময় আপনি বুয়েট থেকে আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হবেন। এরপরই কি প্রফেশনালি গান করবেন?
আমার ক্যারিয়ার পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। আমার ক্যারিয়ারের সঙ্গে গানের কোনো দ্বন্দ্ব কখনোই হবে না। একজন মানুষ ক্যারিয়ারে দুটো কাজ অবশ্যই করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি গান যেহেতু চর্চা করতে পেরেছি, আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরও প্রফেশনালি গানটা চালিয়ে যেতে পারবো।
গান গাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কোন শিল্পীদের অনুকরণ করেন?
অনুকরণ নয়, আমি আমার প্রিয় শিল্পীদের অনুসরণ করার চেষ্টা করি। এ তালিকায় রয়েছেন শ্রদ্ধেয় লতাজি, আশা ভোসলে, শ্রেয়া ঘোষাল, সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপা, মিতালী মুখার্জি প্রমুখ।
সূত্র: যায়যায়দিন, জুন ১৫, ২০০৯
Tags: আলাউদ্দিন আলী, আশা ভোসলে, কনকচাঁপা, কেয়া, মিতালী মুখার্জী, লতা মঙ্গেশকর, শ্রেয়া ঘোষাল, সাবিনা ইয়াসমিন
Related News:
Leave a Reply