কিছুতেই আমি ভয় পাই না : সোনিয়া

Posted by Bangla Music on Jun 10th, 2009 and filed under Features, Photo Gallery, সাক্ষাত্কার. 923 views. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

কিছুতেই আমি ভয় পাই না : সোনিয়া

২০০৫ সালে প্রথম ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার অন্যতম সফল তারকা সোনিয়া। সম্প্রতি ইউরোপ-আমেরিকা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি। সোনিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবেগ রহমান, ছবি শরীফ সারওয়ার

২০০৫ সালে ক্লোজআপ ওয়ান শেষে এখন পর্যন্ত আপনার দুটি একক নিঠুর বাঁশি ও ভেবে নেবো বাজারে এসেছে। অ্যালবাম দুটির খবর কী?
আমার দুটি অ্যালবামই শ্রোতারা গ্রহণ করেছে। শ্রোতানন্দিত হয়েছে বলেই নিঠুর বাঁশি, বাজেরে বাজেরে ঢোল আর ঢাক/এলোরে পহেলা বৈশাখ, সারা বাংলায় খুঁজি তোমায় ও ভেবে নেবো অ্যালবামের তার লাগি মন পুড়ে যায়, দিওয়ানা, যা মন পাখি উড়ে যা গানগুলো সুপারহিট হয়েছে। মোটকথা দুটি অ্যালবাম দু’রকম। নিঠুর বাঁশি কমার্শিয়াল ফোক আর ভেবে নেবো বর্তমান সময়োপযোগী। শওকত আলী ইমনের সুর-সঙ্গীতে নিঠুর বাঁশি ও হৃদয় খানের সুর-সঙ্গীতে ভেবে নেবো অ্যালবাম দুটি স্বতন্ত্র সোনিয়াকেই খুঁজে পেয়েছে শ্রোতারা।

২০০৫ সালে প্রথম ক্লোজআপ ওয়ানে আপনি চতুর্থ হয়েছেন। এ ধরনের সঙ্গীত প্রতিযোগিতা এখন প্রায় সব চ্যানেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতোগুলো সঙ্গীত প্রতিযোগিতার প্রয়োজনীয়তা কতোটা আছে বলে মনে করেন?
প্রথমেই বলে রাখি, এ ধরনের প্রতিযোগিতার প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলা গানকে প্রমোট করা। পুরনো গানকে জাগিয়ে তোলা। ক্লোজআপ ওয়ানের পরই গান শেখার প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বেড়েছে। তরুণরা এখন বাংলা গান বেশি বেশি চর্চা করছে। আবার এটাও বলতে হয়, এ ধরনের প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণরূপে কমার্শিয়াল কনসেপ্ট ছাড়া আর কিছু নয়। ফলে প্রতিযোগিতার আয়োজনে চ্যানেলগুলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো প্রতিযোগিতা শিল্পী জন্ম দিতে পারে না। রুনা লায়লা কিংবা সাবিনা ইয়াসমিনদের মতো শিল্পী কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে না। শিল্পীরা জন্ম নেয়। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা পাঁচ-দশ বছরে একবার আয়োজন করলে ভালো হতো। তাহলে ট্যালেন্ট তৈরি হতে পারতো। খেয়াল করলে দেখবেন, সালমা বাদে বাকি সব ক্লোজআপ তারকা কিন্তু ২০০৫ সালের প্রতিযোগিতা থেকেই উঠে এসেছে। এরপর অন্য কোনো প্রতিযোগিতা থেকে একজন শিল্পীও উঠে আসতে পারেনি।

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতা শেষে আপনি স্বাধীনভাবে গান-বাজনা করছেন। এমনটা কেন করেছেন?
ক্লোজআপের কাছে আমি চিরঋণী। গত ৪ বছরে আমি যতোটা এগিয়েছি ক্লোজআপ ছাড়া কোনোদিন তা সম্ভব হতো না। আমি ক্লোজআপ থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। কোনো বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে চাইনি। আমি সবসময় শ্রোতাদের কাছে উপস্থিত থাকতে চেয়েছি। এজন্যই আমি আমার অবস্থান শক্ত করতে পেরেছি। যা ক্লোজআপের অন্য কেউ পেরেছে বলে জানা নেই।

নিজের অবস্থান নিয়ে আপনি কতোটা সন্তুষ্ট?
নিজের অবস্থান নিয়ে আমি অনেক খুশি। এজন্যই আমি বিশ বছর পর কোথায় থাকবো তা এখনই ভাবতে পারছি। আমি বাংলাদেশে লিজেন্ড হতে চাই। শিল্পী সত্তার ভেতরে অনন্য মানুষ হতে চাই।

এ প্রজন্মের একজন শিল্পী হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আপনি কতোটা সচেতন?
আমরা হচ্ছি আইডল। এটা আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি ছাড়া আর কিছু নয়। সেদিন আমি ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজে যাই। আমাকে দেখেই কলেজের সব মেয়ে ছুটে আসে। আমি কী পোশাক পরেছি, কেমন করে হাঁটি, কেমন করে কথা বলি এটা তারা খুব খেয়াল করলো। আমার প্রিয় রঙ লাল। লাসভেগাসে শো করতে গিয়ে দেখি সেখানে বাঙালি কমিউনিটির সব বাসার পর্দা, বেডশিট অর্থাৎ সর্বত্র লাল রঙের ছড়াছড়ি। আমি অবাক হয়ে যাই। এক মাস ধরে তারা ঘরবাড়ি সব সাজিয়েছে আমার আগমন উপলক্ষে। বুঝেছিলাম শিল্পীরা সামাজিক দায়বদ্ধতা বহন করে। একজন সাধারণ মানুষের তুলনায় একজন সেলিব্রেটি সমাজকে অনেক বেশি প্রভাবিত করতে পারে। সেজন্য সফল শিল্পীকে সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস হতে হবে।

ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে নিজের স্টেজ ও অ্যালবাম নিয়ে কতোটা সিরিয়াস আপনি?
স্টেজে আমার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই স্টেজের ব্যাপারে আমি খুব সিরিয়াস। অন্যদিকে আমি বছর বছর অনেক অ্যালবাম করার পক্ষে নই। আমি গুছিয়ে খুব সুন্দর একটা নতুন একক আমার শ্রোতাদের উপহার দিতে চাই। এখন সেই অ্যালবামের কাজে হাত দিয়েছি। মনের মতো না হওয়া পর্যন্ত ওই অ্যালবামটা বাজারে ছাড়ছি না।

অনেকেই মন্তব্য করেন, আপনার মৌলিক গান নেই। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
আমার কিন্তু বেশ কয়টি মৌলিক গান বেরিয়ে এসেছে। যেমন, সারা বাংলা, মনেরই টানে, বন্ধু প্রেমেরই টানে, খুঁজি তোমারে, সুখ আমার সইলো না- এ গানগুলো স্টেজে বরাবরই শ্রোতারা খুব উপভোগ করে।

বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত মিউজিক সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
পুরনো গান যখন রিমেক করা হয় সব সময় তা হিট হয়। তাই বলি, পুরনো গান সবসময় বেঁচে থাকবে। এখন যে পবিরর্তন তা আরবান শ্রোতারা বেশি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন, পরিবর্তিত এ মিউজিকে কী আছে? কোন গান দিয়ে মানুষ আমায় গ্রহণ করছে এটা আমি সবসময় চিন্তা করি।

সূত্র: যায়যায়দিন, জুন ১০, ২০০৯

Tags:

Related News:

2 Responses for “কিছুতেই আমি ভয় পাই না : সোনিয়া”

  1. Mansur says:

    wow, she’s cute…
    good luck to her!

  2. munna says:

    Tar gan amr khub valo lage.tar close up 1,2,3 ar modhe thaka uchit chilo.

Leave a Reply

Login with Facebook:

Bangla Music : Incoming search terms

Advertisement