গিটারিস্টদের মধ্যে প্রিয় গিটারিস্ট ইকবাল আসিফ জুয়েল। বাংলাদেশের প্রথম গিটার ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবাম এক্স ফ্যাক্টর তারই করা। জুয়েল উইথ স্টারস শিরোনামে একটি মিক্সড অ্যালবাম দিয়ে সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বছর দেড়েক আগে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে জি-সিরিজের ব্যানারে বাজারে এসেছে তার এ অ্যালবামেরই সিকুয়াল অ্যালবাম জুয়েল উইথ স্টারস টু। সম্প্রতি যায়যায়দিনের চে কাফেতে এসেছিলেন ইকবাল আসিফ জুয়েল। তার সঙ্গে কথা বলেছেন টি আই অন্তর। ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল করিম
জুয়েল উইথ স্টারস এবং জুয়েল উইথ স্টারস টু-র মধ্যে পার্থক্য কি?
জুয়েল উইথ স্টারসের শিল্পীরা ছিলেন সুমন, তাহসান, জন, জুয়েল ও রাসেল। তাদের সবাই ছিলেন রক ব্যান্ড ভোকালিস্ট। তাই অ্যালবামের গানগুলোও ছিল পুরোপুরি রক প্যাটার্নের। এ অ্যালবামে গান করেছেন হামিন আহমেদ, বাপ্পা মজুমদার, তাহসান, কানিজ, জুয়েল, কণা, শুভ, রমা ও রাসেল। তাদের মধ্যে যেমন রক শিল্পী রয়েছেন তেমনি রয়েছেন অন্য ঘরানার শিল্পীও। তাই গানও করেছি বিভিন্ন প্যাটার্নের। ফলে এ অ্যালবামে কিছুটা নতুনত্ব এসেছে।
কার জন্য কি ধরনের গান করেছেন আর কে কেমন গেয়েছেন?
প্রত্যেকের নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখে আমি আমার স্টাইলের সঙ্গে কম্বিনেশন করে গানগুলো তৈরি করেছি। কারো স্টাইলই আমি ডেসট্রয় করিনি। প্রথম গানটি গেয়েছেন কানিজ সুবর্ণা। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে ফিউশনধর্মী সুর। কম্পোজিশন প্যাটার্ন ক্লাব মিক্স। অ্যারেঞ্জমেন্টে খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট করিনি। তবে তবলা আর সেতারের ব্ল্যান্ডিং ছিল। পপ সিনে যতো শিল্পী আছেন, তাদের মধ্যে কানিজ সুবর্ণা মোস্ট ট্যালেন্টেড। গানটি সে অসাধারণ গেয়েছে। তাহসানের গানটি সেলটিক ফ্লেভারের ব্যালাড প্যাটার্ন। কথা ও সুরের আবেগ চমৎকারভাবে কণ্ঠের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন তাহসান। এ গানটিতে প্রথমবারের মতো তাহসানের ভোকালে লেয়ারিং করিয়েছি। বাপ্পা মজুমদারের গানটি দারুণ রোমান্টিক। গানটি বাপ্পার জন্য বেশ সাবলীল হলেও কিছুটা আপ টেম্পোর গান এটি। অ্যাকোস্টিকের কাছাকাছি ড্রামিং, শ্রুতিমধুর পিয়ানো প্লেয়িং আর পাওয়ারফুল গিটারে পরিমিত মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট। খুব সিম্পলি যে কারো ভোকাল এতো সুন্দর হতে পারে তা বোঝা যায় বাপ্পার গানটি শুনলে। আমার গানটির সহজবোধ্য কথা আর মেলোডিয়াস টিউন। পিয়ানো আর গিটারে করা স্লো ব্যালাড ঘরানার কম্পোজিশন। গানটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে গানটিতে ড্রামিং ইউজ করিনি এবং গানটির আশি ভাগে বেইজ গিটারও নেই। এ গানে গেস্ট মিউজিশিয়ান হিসেবে সিনথিসাইজার বাজিয়েছেন মানাম আহমেদ। রমার গানটিতে ভ্যারিয়েশন আছে। পাহাড়ি সুর, কিছুটা সাউথ ইনডিয়ান ফিলও আছে। গানটির রিদম সেকশন খুবই স্মার্ট। পারকাশন আর স্ট্রিংসয়ের ব্ল্যান্ডিং করেছি। এ গানটিতে সবচেয়ে ভালো বেইজ গিটার প্লে করা হয়েছে। হামিন আহমেদের গানটি অল্টারনেটিভ রক। কথা, সুর আর মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট মিলে খুবই সুন্দর গান এটি। কণার গানটি পিওর ফিউশন। শুভর গানটি পিওর হার্ড। শেষ গানটি আমি আর কানিজ দ্বৈতভাবে গেয়েছি। কিছুটা রক, কিছুটা হিপহপ মিলে ব্যতিক্রমী কম্পোজিশন।
অ্যালবামের শ্রোতা রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন?
খুবই ভালো। বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী আর পরিচিতদের কাছ থেকে প্রচুর ফোন ও এসএমএস পাচ্ছি। দোকানে দোকানে বাজতে শুনছি। আমরা যারা নেপথ্যে কাজ করি, আমাদের সঙ্গে শ্রোতাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই বলে তাদের মতামত সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছি না। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানতে পেরেছি, অ্যালবামটির বাজার কাটতি খুবই ভালো। আমি আশা করছি, সামনে আরো ভালো রেসপন্স পাওয়া যাবে। গানগুলোর মিউজিক ভিডিও তৈরি হচ্ছে, শিগগির সেগুলো বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা যাবে। আর তখনই একচুয়াল জাজিং শুরু হবে।
অ্যালবামটির সিকুয়াল করার কারণ কি?
প্রথম অ্যালবামটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ায় কিছুটা অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আর জি-সিরিজের খালিদ ভাই আরেকটু বড় পরিসরে এ রকম আরেকটি অ্যালবাম করতে বললেন। তাছাড়া আমার ভক্ত-শ্রোতারাও দীর্ঘদিন পীড়াপীড়ি করছিলেন পরের অ্যালবামের জন্য। সবার কথা চিন্তা করেই শেষ পর্যন্ত অ্যালবামটি করলাম।
নিজে অ্যালবাম করা ছাড়াও আপনি অন্যদের অ্যালবাম প্রডিউস করছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলুন।
আমাদের দেশে অ্যালবাম প্রডিউসের ধারণাটি নতুন। সম্ভবত আমিই শুরু করেছিলাম অর্থহীনের অ্যালবাম দিয়ে। এরপর আর্টসেলের অনিকেত প্রান্তর, দৌড়ের ডেবু অ্যালবাম, আর্বোভাইরাসের অ্যালবামসহ বেশ কিছু অ্যালবাম প্রডিউস করেছি। প্রথম দিকে প্রডিউসার হিসেবে নিজের নাম ব্যবহার করতাম না। এখন করছি। কারণ, প্রডিউসিং ব্যাপারটি এখন ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। আমি চাই, এ ব্যাপারে সিনিয়র সব মিউজিশিয়ানই এগিয়ে আসুক। তাহলে নতুন প্রজন্মের মিউজিশিয়ানরা আমাদের কাছ থেকে একটা সঠিক গাইড লাইন পাবে। আর এতে আমাদের মিউজিক আরো উন্নত হবে, আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
শোনা যাচ্ছে গিটার ইন্সট্রুমেন্টাল এক্স ফ্যাক্টরের সিকুয়াল করছেন। আমাদের দেশের শ্রোতাদের কাছে ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবামকে জনপ্রিয় করার জন্য কি করা উচিত বলে মনে করেন?
হ্যা। সম্প্রতি শুরু করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আশা করছি এ বছরই অ্যালবামটি শ্রোতাদের হাতে পৌছে দেবো। এটা খুবই দুঃখজনক, আমাদের দেশের শ্রোতাদের কাছে এখনো ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবাম পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ জন্য আমাদের মিউজিশিয়ানরাই দায়ী। আমরা যারা মিউজিক করছি তাদের সবার উচিত অন্তত একটি হলেও ইন্সট্রুমেন্টাল অ্যালবাম করা। শ্রোতা তৈরি করার জন্য ইন্সট্রুমেন্টাল কনসার্ট করা। আমাদের দেশের শিল্পী আর মিউজিশিয়ানরা বরাবরই তারকা খ্যাতির দিকে দৌড়াচ্ছে। ভালো মিউজিকের দিকে নজর দিচ্ছে না। একটা হিট গান করার চেয়ে একটা ভালো গান করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের বুঝতে হবে, আমাদের শ্রোতাদের বোঝাতে হবে।
বর্তমানে কি করছেন?
কিছু কিছু অ্যালবামের প্রডিউসিংয়ের কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকের পরের অ্যালবাম, আর্বোভাইরাসের পরের অ্যালবাম এবং জেনেস্পিটের পরের অ্যালবাম। এছাড়া ব্যস্ত রয়েছি মাইলসের শো আর পরের অ্যালবামের রেকর্ডিং নিয়ে। আর এ বছরের মধ্যেই আমার সলো অ্যালবামের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Tags: কানিজ সুবর্ণা, খালিদ, টি আই অন্তর, তাহসান, বাপ্পা মজুমদার, মানাম আহমেদ
Related News:
Leave a Reply