একজন নিবেদিত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী দোদুল আহমেদ
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের স্পেশাল গ্রেডের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী দোদুল আহমেদ। ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের প্রায় সব গানই ধারণ করেছেন তার সুমধুর কণ্ঠে। সম্প্রতি তার গান নিয়ে একটি ভিন্নধর্মী আলেখ্য অনুষ্ঠানও নির্মিত হয়েছে। শিল্পী দোদুল আহমেদ এসেছিলেন যায়যায়দিনে। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবন নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন বাবুল হৃদয় ও ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল করিম।
সঙ্গীতে এলেন কিভাবে?
মা খুব ভালো গান করতেন। আকাশবাণী কলকাতার রেডিওর নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। আমরা ছিলাম তিন বোন, দুই ভাই। তিন বোনই গান শিখতেন। আমি দূরে দাঁড়িয়ে শুনতাম। এই শুনতে শুনতে যতোটুকু শেখা। এরপর ১৯৬৩ সালে ছায়ানটে শিখি বেশ কিছুদিন। এটা নিজের উদ্যোগ থেকে। জুলহাস উদ্দিন আহমেদের কাছে গান শিখেছি, পরে ওস্তাদ গুল মোহাম্মদের কাছেও তালিম নিয়েছি। শেখার পাশাপাশি পারফর্ম করতে করতে এই তো আজ এ পর্যন্ত এসেছি।
বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত হলেন কখন?
বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত হয়েছি ১৯৬৭ সালে। আমি তখন ছাত্র। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে গান শুনেছিলেন কবি জসীম উদদীন। তিনি গান শুনে ডেকে নিয়ে বলেছেন, তুমি রেডিওতে গান করবে? এটা বলে উনি কথায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন, আমি তার ঠিকানা নিতে পারলাম না। পরে অনেক কষ্টে ঠিকানা বের করে তার কাছে গেলাম। তিনি আলিমুজ্জামানের কাছে চিঠি দিয়ে পাঠালেন। চিঠিটা আমি পড়েছিলাম- তোমার কাছে পাঠালাম, এটা কোনো তদবির নয়। ওর গান শুনবে, ভালো লাগলে ব্যবস্থা নিও। এরপর চিঠি নিয়ে গেলাম। অডিশন হলো, টিকে গেলাম। আমি কবি জসীম উদদীনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।
গান দিয়ে প্রথম দিকের রোজগারের কথা মনে আছে?
প্রথম প্রথম তো বিনা টাকায় করতাম। পরে একটা সময় এলো। অনেকে ডাকতো। সে সময় গান গাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ টাকা দিত। খুব খুশি হতাম। তখন অবশ্য এ টাকা অনেক টাকা।
এ পর্যন্ত মোট কতোগুলো রবীন্দ্রসঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন?
প্রায় সব গানই আমি গেয়েছি। যেগুলো আমি রেকর্ড করে রেখেছি তার সংখ্যা হবে ৭শ’ থেকে ৮শ’।
এতো ধরনের গান থাকতে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বেছে নিলেন কেন?
আমার ব্যক্তি চরিত্রের সঙ্গে সম্ভবত রবীন্দ্রসঙ্গীতের একটা মিল আছে। হয়তো এ জন্য আমাকে এদিকে টেনেছে। তবে আমি পুরনো দিনের গানও পছন্দ করি এবং গাই।
রবীন্দ্রসঙ্গীতের কোন গানটি আপনার বেশি প্রিয়?
এটা বলা খুবই মুশকিল। অনেক গানই প্রিয়। তুমি সুন্দর মেঘমালা এ গানটি মনে হচ্ছে একটু বেশিই প্রিয়।
পশ্চিমি দেশের চেয়ে আমাদের রবীন্দ্রসঙ্গীতের অবস্থান কেমন?
ওদের চেয়ে আমাদের দেশের শিল্পীরা অনেকগুণ ভালো গায়। রবীন্দ্রসঙ্গীত আমাদের দেশের একটা শ্রেণীর কাছে খুবই প্রিয় হয়ে আছে।
আপনার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কে?
তপন মাহমুদ, মহিউজ্জামান চৌধুরী, পাপিয়া সারোয়ার, মিতা হকসহ বেশ কয়েকজন।
বাজারে আপনার কোনো অ্যালবাম নেই কেন?
ক্ষোভের কারণে করিনি। আমাকে আমি খুব ভালো সিঙ্গার বলবো না। তবে ফেলে দেয়ার মতো নয়। কোনো কোম্পানি ডাকেনি তাই করিনি। আমার যা সামর্থ্য ছিল তাতে প্রতি মাসে একটি করে নিজে অ্যালবাম করতে পারতাম।
আপনার অডিও কোম্পানিটির খবর কি?
ওয়েভ অডিও-ভিডিও প্রাইভেট লিমিটেড ১৯৯২ থেকে ২০০০ পর্যন্ত চালিয়েছিলাম। এখন আপাতত বন্ধ।
ব্যক্তি জীবনে আর কী কী করেছেন?
আমি করাচি ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে জাহাজে দুই বছর চাকরি করেছি। বেশ কয়েক বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়েছি।
‘নানা রং রবীন্দ্রনাথের- একখানা মালা’ অনুষ্ঠানটি আপনার গান দিয়ে সাজানো হয়েছিল?
হ্যাঁ। জিনাত হাকিম রবীন্দ্রনাথের ১৪৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছেন। বৈশাখীতে প্রচার হয়েছে। আমার খুবই ভালো লেগেছে অনুষ্ঠানটি।
আগামীর ভাবনা কি?
যতোদিন বাঁচবো গান গেয়ে যাব।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে বলুন?
আমার এক ছেলে এক মেয়ে এবং স্ত্রী নিয়ে আমি গুলশানে থাকি।

Post Your Comments