আজ সারাদিন নিয়ে প্রচণ্ড আশাবাদী সুমন কল্যাণ
তরুণ সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালকদের মধ্যে মেধাবী ও সম্ভাবনাময় হিসেবে যার নামটি এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তিনি সুমন কল্যাণ। বাপ্পা মজুমদার, প্রয়াত নিলয় দাশ, কুমার বিশ্বজিৎ, মিতালী মুখার্জী, আলম আরা মিনুসহ অনেক সিনিয়র শিল্পীর পাশাপাশি অনেক জুনিয়র শিল্পীর গান করেছেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে গানচিলের ব্যানারে বাজারে এসেছে তার একক সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় মিক্সড অ্যালবাম আজ সারাদিন। সম্প্রতি যায়যায়দিন চে কাফে-তে এসে আজ সারাদিন এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন টি আই অন্তর। ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল করিম।
আজ সারাদিন সম্পর্কে বলুন।
আজ সারাদিন একটি মিক্সড অ্যালবাম। এ অ্যালবামের শিল্পীরা হলেন ক্লোজআপ ওয়ান তারকা নোলক, রাজীব, রিংকু, রাশেদ ও রাফাত। অ্যালবামে গান রেখেছি ১০টি। প্রত্যেকেই দুটি করে গান গেয়েছেন। গানগুলো লিখেছেন ইমতিয়াজ ইকরাম, রবিউল ইসলাম জীবন, লুৎফর হাসান, ঋত্বিক নয়ন ও টি আই অন্তর।
কি ধরনের গান করেছেন এ অ্যালবামে?
স্যাড রোমান্টিক, মৌলিক ফোক, ফিউশন, টেকনো, ব্লুজ, ব্যালাড, ল্যাটিন ও ওয়েস্টার্ন কান্ট্রি ফরমাটের গান করেছি। তবে সব গানই মেলোডি নির্ভর। নোলক, রাজীব, রিংকু, রাশেদ ও রাফাত- প্রত্যেকেরই নিজস্ব গায়কী স্টাইল আছে। আমি তাদের স্টাইলকে বজায় রেখে আমার স্টাইলের সঙ্গে ব্লেন্ড করেছি।
এ অ্যালবামের শিল্পীদের মধ্যে কার গায়কী আপনাকে কতোটা তৃপ্তি দিয়েছে?
সবার গায়কীই ভালো লেগেছে। নোলকের গাওয়া যোগ-বিয়োগ এবং মন উচাটন গান দুটিতে আবারো প্রমাণিত হয়েছে নোলকই সেরা। যোগ-বিয়োগে নোলকের অনেক মিষ্টি গলা বেরিয়ে এসেছে। গানটি অনেক হাই পিচে করেছিলাম এবং আমি খুব সংশয়ে ছিলাম, তার গলা এতো উচুতে যাবে কি না। গানটি সে এতোই ভালো গেয়েছে, আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি। মন উচাটন গানটি নোলকের স্টাইলের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গেছে, যার কারণে অটোমেটিকালি গানটি সে ভালো গেয়েছে। রাজীব গেয়েছে তোর কাছে এবং বাউল মন। তোর কাছে গানটির সুরের স্টাইল বেশ কঠিন ছিল। রাজীব গানটি প্রপারলি গাইতে পেরেছে। বাউল মন গানটিতে একটা টাফ হারমোনি পার্ট আছে। রাজীব সেটা অসাধারণভাবে গেয়েছে। রাশেদ গেয়েছে আজ সারাদিন এবং মনে পড়ে। একেবারে ন্যাচারাল গলায় গান দুটি গেয়েছে সে। রিংকু গেয়েছে দিন গেল এবং পথে পথে। পিওর ফোক গলায় রিংকু খুবই ভালো গেয়েছে। রাফাতের ফ্যান্টাস্টিক ভয়েস। টোনাল কোয়ালিটি খুবই ভালো। বৈরাগী এবং আমার হৃদয়ে গান দুটি সে চমৎকার গেয়েছে।
অ্যালবামটির শ্রোতা রেসপন্স নিয়ে আপনি কতোটা আশাবাদী?
যদিও সবাই বলাবলি করছে, অডিও মার্কেটের অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও আমি খুবই আশাবাদী। কথা, সুর এবং মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টের দিক থেকে আজ সারাদিন সত্যিকার অর্থেই একটি পরিচ্ছন্ন অ্যালবাম। আমার বিশ্বাস, শ্রোতারা অ্যালবামটি ভালোভাবেই গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে নোলকের যোগ-বিয়োগ, মন উচাটন এবং রিংকুর দিন গেল গানগুলো নিয়ে আমার অনেক আশা।
এ পর্যন্ত আপনি অনেক অ্যালবামে কাজ করেছেন, এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির কথা বলুন।
আমার করা প্রথম মিক্সড অ্যালবাম ছিল কাছে আসার দিন ভালোবাসার দিন। এ অ্যালবামের শিল্পীরা ছিলেন বাপ্পা মজুমদার, প্রয়াত নিলয় দাশ ও স্টিলার ব্যান্ডের শাহিন। ২০০৪ সালের ভালোবাসা দিবসে সঙ্গীতার ব্যানারে বের হওয়া এ অ্যালবামটি দিয়েই সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে অনেকের কাজই করেছি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপমের একক অ্যালবাম মন ভাসাইয়া দে, ডা. ইকবালের মিক্সড অ্যালবাম গদ্য-পদ্য, কুমার বিশ্বজিৎ ও মিতালী মুখার্জীর দ্বৈত অ্যালবাম স্বপ্ন উড়াই, আলম আরা মিনুর একক অ্যালবাম দক্ষিণের জানালা প্রভৃতি।
সম্প্রতি আপনার করা সিডর নিয়ে একটি গান এনটিভিতে দেখা যাচ্ছে, গানটি সম্পর্কে বলুন।
সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর তাদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে এ গানটি করেছিলাম কিছুদিন আগে। এটা এনটিভির নিজস্ব গান। গানটি গেয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। এনটিভি কর্তৃপক্ষের চাপে খুব অল্প সময়ের মধ্যে গানটি করতে হয়েছিল। জানি না গানটি কেমন হয়েছে। তবে চেনা-জানা অনেকেই ফোন করে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। এনটিভি কর্তৃপক্ষও নাকি বেশ পরিতৃপ্ত। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, মানব উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি গানটি দেখে খুব অ্যাপ্রিসিয়েট করেছে এবং তারা এনটিভি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গানটি চেয়ে নিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারা গানটি রিপ্রেজেন্ট করবে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর বাংলাদেশের ওপর কি পরিমাণ প্রভাব ফেলেছে তার চিত্র উপস্থাপন করার জন্যই গানটি তারা সারা বিশ্বে প্রচার করতে চাচ্ছে। এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনি বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
বর্তমানে কি কি কাজ করছেন?
বর্তমানে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা কিশোর ও পুতুলের কাজ করছি। কিশোরের অ্যালবামে কয়েকটি গান আর পুতুলের অ্যালবামের সব গানই আমি করছি। এছাড়া ক্লোজআপ ওয়ানের বাইরে কয়েকজন নতুন শিল্পী নিয়ে সম্পূর্ণ রক প্যাটার্নের একটা আন্ডারগ্রাউন্ড মিক্সড অ্যালবাম করছি। এ অ্যালবামের পরিকল্পনা আসিফ ইকবালের। অ্যালবামের সব গান তারই লেখা।
আপনার মিউজিক ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন।
আমি মূলত একজন কি-বোর্ড প্লেয়ার। কি-বোর্ডিস্ট হিসেবে এ পর্যন্ত আমি সিটি বয়েজ, সফট টাচ, স্পার্ক ও স্টিলার ব্যান্ডে বাজিয়েছি। এগুলোর প্রায় সবই চিটাগং ওরিয়েন্টেড ব্যান্ড। ১৯৯৬ সালে ফিলিংসের ড্রামার ফান্টি ভাইয়ের উৎসাহে ঢাকায় চলে আসি এবং ফিলিংস ব্যান্ডে বিচ্ছিন্নভাবে কিছুদিন বাজাই। ফিলিংসের দুঃখিনী দুঃখ করো না অ্যালবামে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। ফিলিংস ভেঙে গিয়ে নগর বাউল হওয়ার পরও আমি বেশ কিছুদিন জেমস ভাইয়ের সঙ্গে বাজিয়েছি, বিশেষ করে স্টেজে। এরপর গেস্ট মিউজিশিয়ান হিসেবে সোলসের সঙ্গে বাজিয়েছি কিছুদিন। সোলসের কি-বোর্ডিস্ট আজাদ ভাই চলে যাওয়ার পর থেকে মাসুমের জয়েন করার আগ পর্যন্ত। আর এখন তো আমি পুরোদস্তুর সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছি।
মিউজিকে উৎসাহ পেয়েছেন কার কাছ থেকে?
আমার মায়ের কাছ থেকে। আমার মা কৃষ্ণ কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। মা গান-বাজনা খুব পছন্দ করেন এবং সব সময়ই চাইতেন আমি যেন গান করি, মিউজিক করি। মায়ের স্বপ্ন আমি কতোটা পূরণ করতে পেরেছি জানি না, তবে মায়ের উৎসাহ না পেলে আমি কোনোদিনই মিউজিশিয়ান হতে পারতাম না এবং আজকের এ অবস্থানে আসতে পারতাম না। আমার বাবাও গান পছন্দ করতেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বরিশালের আটঘরপুরিয়ানার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি।
সূত্রঃ যায়যায়দিন।
Bangla Music Tags: Suman Kalyan, সুমন কল্যাণ
Post Your Comments