অ্যালবাম রিভিউ - স্বপ্নচূড়া ৩

Swapna Chura 3ব্যান্ড ব্ল্যাক-এর ড্রামার টনির সমন্বয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড মিক্সড অ্যালবাম স্বপ্নচূড়া ৩।

এ কারণেই অ্যালবামের প্রথম গান ব্ল্যাকের। ব্ল্যাকের এবারের গানটি খুব বেশি ভালো হয়নি। জন বরাবরের মতোই ভালো গেয়েছেন। কিন্তু সুর ও কমপোজিশন দাগ কাটার মতো নয়। গিটার প্লেয়িংয়ে আছে ইউ টু ব্যান্ডের প্রভাব।

যাত্রীর জন্মেছি তাই গানটি তাদের কমন স্টাইলের সীমারেখা ছাড়াতে পারেনি। কমপোজিশন অনেকটাই যাত্রীর নিজস্ব অ্যালবাম ডাক-এর আমি চাই রোদ্দুর গানটির মতো।

মিউজিক কমপোজিশনের দিক থেকে অ্যালবামের অন্যতম ভালো গান শিরোনামহীন-এর ট্রেন। ক্লাসিকাল সুরের গান করেছে মহাকাল। একেবারেই নতুন ধরনের বেশ ভালো কমপোজিশন তাদের প্রতিদিন গানটি।

জেমসের কণ্ঠ পুরোপুরি অনুকরণের চেষ্টা করেছেন অরণ্য-এর ভোকালিস্ট দীপ্ত। তাদের তার ছিড়ে গেছে গানটি একঘেয়ে মেলোডিয়াস একটি কমপোজিশন। গিটারের সুরও ভালো নয়। ভোকালিস্ট বালামের সুর ও কমপোজিশনের গান মন্ত্র-এর প্রতীক্ষা। ভোকালিস্ট অপু এতো দারুণভাবে বালামের সুরের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন যে প্রথমে শুনলে মনে হবে বালামই গাইছেন। অ্যালবামের আরেকটি ভালো গান বলা যেতে পারে বৃড-এর শ্বেতকাব্যকে। সম্পূর্ণ নতুন ধরনের গান। বাংলাদেশে এ ধরনের গান আগে হয়নি। ওয়েস্টার্ন অপেরা বেইজড ক্লাসিকাল গানের মতো সুর করেছেন ভোকালিস্ট নোভা। সঙ্গে সুজন ও নোমানের সুন্দর হিপ-হপ প্যাটার্নের মিউজিক কমপোজিশন। তুলনামূলক খারাপ কমপোজিশনের ও গিটারের সুরের গান ডার্ক-এর এলোমেলো। বলার মতো কিছুই নেই গানটি সম্পর্কে। ভোকালিস্ট মির্জা বেসুরো কণ্ঠের।

আরেকটি সাধারণ মানের গান কাল্পনিকের স্বগতোক্তি। নিজেদের প্রগ্রেসিভ রক ব্যান্ড বলে দাবি করা কাল্পনিকের এটিও আরেকটি তথাকথিত প্রগ্রেসিভ কমপোজিশন এবং আবারো ভালো কিছু উপহার দিতে ব্যর্থ তারা।

কলকাতার ব্যান্ড ফনিক্সের অভিমানী গানটির শুরুটা গৎবাধা মেলোডিয়াস গানের মতো। বেশ ভালো প্রগ্রেসিভ কমপোজিশন করেছে ব্যান্ডটি। আয়োনিকের নতুন দিন গানের প্রথম অংশটুকুও গৎবাধা মেলোডিয়াস টাইপের হলেও ফনিক্সের মতো পরের অংশ প্রগ্রেসিভ। একটা ব্রেক দিয়ে গিটার প্লেয়িংয়ের মাধ্যমে এ অংশটা শুরু হয়েছে। তেমন উন্নত মানের কমপোজিশন নয় সাইকোভিনার সময়। অরণ্যের ভোকালিস্টের মতো তাদের ভোকালিস্টও জেমসকে অনুকরণের চেষ্টা করেছেন কিছুটা।

ইন্সট্রুমেন্টাল ব্যান্ড পূর্ব-পশ্চিম স্বপ্নচূড়া অ্যালবামেও অনবদ্য একটি কমপোজিশন করেছে, যার নাম শেষ প্রান্ত। অন্যান্য সময়ের মতোই জাবেরের বাশির সুরকে ভিত্তি করেই কমপোজিশন করা হয়েছে। এবারো দুর্দান্ত বাজিয়েছেন জাবের। এ অ্যালবামে ব্ল্যাকের হয়ে না হলেও পূর্ব-পশ্চিমের হয়ে শেষের দিকে দারুণ ড্রামিং করেছেন টনি। তার স্বভাবসুলভ পরিচিত স্টাইলের ড্রামিং।

সব মিলিয়ে বলা যায় এবারের স্বপ্নচূড়া অ্যালবামটি এ সিরিজের আগের দুটি অ্যালবামের চেয়ে মানের দিক থেকে অনেকখানিই নিচে।

সূত্রঃ দৈনিক যায়যায়দিন।

Post Your Comments

*
To prove you're a person (not a spam script), type the security text shown in the picture. Click here to regenerate some new text.
Click to hear an audio file of the anti-spam word

Bangla Music : Incoming search terms